রাজশাহী মহানগরীতে নির্মাণাধীন সড়কে দুঃসহ দুর্ভোগ নগরবাসীর

11
শেয়ার ও লাইক দিন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীতে নির্মাণাধীন সড়কে দুঃসহ দুর্ভোগ নগরবাসীর। ২০১৩ সালে তখনকার অপ্রশস্থ সড়ক ভেঙে ৪২ ফুট প্রস্থের এই রাণীবাজার-সাগরপাড়া সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ বছরের ডিসেম্বরে তা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু তা হবে না। কারণ, সড়ক নির্মাণে রাস্তার ওপর ফেলা ইট-খোয়ার অস্তিত্ব এবারের বর্ষায় হারিয়ে গেছে। তাই সড়ক নির্মাণ করতে হলে আবার নতুন করে ইট-খোয়া ফেলতে হবে।

পরিকল্পনা মতে, এরপর সড়কের মাঝে বসাতে হবে ডিভাইডার। পরে হবে কার্পেটিং। এ সমস্ত কাজের সবই আটকে আছে বৃষ্টির কারণে। এখন একটু বৃষ্টি হলেই উচুঁ-নিচু রাস্তাটির কোনো কোনো স্থানে জমে যাচ্ছে হাঁটুপানি। ফলে দুঃসহ দুর্ভোগে পড়েছেন এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী নগরবাসী। রাস্তাটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৬০০ মিটার। পাঁচ বছরেও নির্মাণ কাজ কেন শেষ হচ্ছে না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বজলুর রহমান কোনো কথা বলতে চাননি।

তবে সড়ক নির্মাণের এই প্রকল্পের পরিচালক রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণ করার জন্য ওই এলাকার প্রায় ৯০টি বাড়ি ভেঙে জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে বৈদুতিক খুঁটিও। এসব কাজেই বেশ সময় চলে গেছে। তিনি বলেন, প্রায় দু’বছর আগে সড়ক নির্মাণের মূল কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজ চলছিলই। তবে ইট-খোয়া ফেলার পর কার্পেটিংয়ের আগে এবার বর্ষা চলে আসে। এ জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়। বর্ষা পার হলে ফের কাজ শুরু হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম। আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কার্পেটিংয়ের জন্য রাস্তায় ফেলা ইট-খোয়াগুলো বেশিরভাগ জায়গায় এখন নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইটের টুকরো। রাস্তাটির প্রায় সব জায়গায় তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। সেই গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। গর্তের এই পানি মাড়িয়েই চলছে গাড়ি, চলছেন পথচারিরা। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তার এমন দশায় ক্ষুব্ধ সাগরপাড়া, তুলাপট্টি, রাণীবাজারসহ আশপাশের মহল্লার বাসিন্দারা।

তুলাপট্টির বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মারিফুল ইসলাম বললেন, সড়কটি নির্মাণ নিয়ে এত দুর্ভোগ হচ্ছে যে নিজের বাড়ি না হলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতাম। শুধু যাতায়াতের ভয়ে এলাকায় কোনো ভাড়াটিয়াও আসতে চাইছে না। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা জুলহাস কবির বলেন, এই এলাকায় বাড়ি হওয়ায় মহামসিবতে পড়েছি। রিকশায় চড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে কোথাও যেতেই এখন ভয় লাগে। ছোট-বড় গর্তে রিকশার চাকা পড়লে কোমর ব্যথা হয়ে যায়। আবার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইট-খোয়ার কারণে পায়ে হেঁটে বের হওয়ারও জো নেই। আমরা চাই দ্রুত সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হোক।

রাসিক সূত্রে জানা গেছে, চারটি অংশের একটি হিসেবে রাণীবাজার-সাগরপাড়া সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের নাম ‘রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় থেকে সোনাদিঘি মোড় এবং মালোপাড়া মোড় থেকে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় উপশহর থেকে সোনাদিঘি পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি মামলার কারণে শুরু হয়নি। তবে প্রকল্পের একেবারে শেষের অংশ হিসেবে রাণীবাজার-সাগরপাড়া সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সড়কটির মাঝে ডিভাইডার বসানোর প্ল্যান থাকলেও ঠিকাদার তা করতে চান না। তবে রাসিক চায় ডিভাইডার। এ নিয়ে দুই পক্ষের রশি টানাটানিতে আটকে গেছে এই উন্নয়ন কাজ। তবে জানতে চাইলে সড়ক নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা রাসিকের প্রকৌশলী নূর ইসলাম তুষার দাবি করেছেন, ঠিকাদারের সঙ্গে এ ধরনের কোনো দ্বন্দ চলছে না। ঠিকাদার কংক্রিটের ডিভাইডার বানিয়েও রেখেছেন। বর্ষার পরে সব কাজই শেষ হবে। রাস্তাটিতে এখন নগরবাসীর দুর্ভোগ হচ্ছে স্বীকার করে এই প্রকৌশলী বলেছেন, উন্নয়ন কাজ চলাকালে কিছুটা দুর্ভোগ হবেই। এটা মেনে নিতে হবে।

রাজশাহীর সময় ডট কম –১২ অক্টোবর ২০১৭