খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের স্থানে নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর ও গুলির অভিযোগে ট্রাস্টি বোর্ডের তিন সদস্যসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার খোলাবাড়ীয়া এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন প্রকল্পে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে প্রকল্প পরিচালক রেজাউল আলম বাদী হয়ে লবণচরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা হলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য তৌহিদুল ইসলাম আজাদ (৬০), পবিত্র কুমার সরকার (৪৫) ও সৈয়দ মো. ওবাইদুল্লাহ (৫৫)। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন প্রকল্প পরিচালক রেজাউল আলম সহকর্মীদের নিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভবন নির্মাণসংক্রান্ত একটি বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে স্থান ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পর চারটি মোটরসাইকেলে করে মুখোশ ও মাস্ক পরিহিত ৮-১০ জন ব্যক্তি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে নিরাপত্তা প্রহরী মিলন করালী (৪৬)-এর কাছে প্রকল্প পরিচালক ও তার সহকর্মীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। একপর্যায়ে তারা নিরাপত্তা প্রহরীকে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন।
নিরাপত্তা প্রহরী বহিরাগতদের চলে যেতে বললে হামলাকারীরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর সময় হামলাকারীদের একজন পিস্তল বের করে গুলি ছোড়েন। তবে গুলিটি তার শরীরে লাগেনি। ঘটনার পর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
প্রকল্প পরিচালক রেজাউল আলম দাবি করেন, ক্যাম্পাস নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বিবাদীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণেই তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ট্রাস্টি বোর্ডকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বিরাজ করছে। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য কানাই লাল সরকার বলেন, হামলার ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক মামলা করেছেন। মামলায় ট্রাস্টি বোর্ডের তিন সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সভা বা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না।
অন্যদিকে, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় ১২ বছর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে নতুন উদ্যোগে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হলেও একটি পক্ষ তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি :