নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মুন্নী আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মুন্নীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের কয়ড়াপাড়া গ্রাম থেকে মুন্নীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মুন্নী আক্তার কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী এবং উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ আলীর মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১০টার দিকে স্বামীর ঘরে মুন্নীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিছানায় রেখে বাড়ি থেকে চলে যান। গভীর রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় মুন্নীর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচাতো ভাই মো. মিঠু জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের পরিবারের লোকজন ফোন করে মুন্নী ফাঁস নিয়েছেন এবং মারা যেতে পারেন বলে জানান। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি কক্ষে বিছানার ওপর মুন্নীর মরদেহ দেখতে পান। এ সময় মুন্নীর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা গরু-ছাগল নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান বলে তিনি দাবি করেন।
মিঠুর অভিযোগ, মুন্নীকে হত্যার পর মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ নামিয়ে মাথায় পানি ঢেলে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় সোহাগসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, মুন্নীর গলায় ফাঁসের দাগ পাওয়া গেছে। তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা পলাতক রয়েছেন।
এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের ধারণা অনুযায়ী রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটতে পারে। মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানোর পর পরিবারের লোকজন তার মাথায় পানি ঢেলেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে মুন্নীর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বর্তমানে জেলা সদরে একটি সভায় রয়েছেন। তিনি থানায় ফেরার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি :