ঢাকা , বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ , ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোপনে বাগ্‌দান সারলেন আয়শা খান এ বার সইফ আলি খানের সঙ্গে জুটিতে দেখা যাবে কিয়ারা আডবাণীকে ইদের ময়দানে মুখোমুখি সালমান-প্রভাস, ২০২৭-এর বক্সঅফিসে বড় লড়াইয়ের ইঙ্গিত! রামেক হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, ৯ দফা দাবি ছাত্রদলের বদলগাছীতে চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শ জীবন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শ জীবন গুরুদাসপুরে সার ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা চারঘাট সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মদ ও মাদকসেবনের সিরাপ জব্দ ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে সাড়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-২ পরকীয়ার অভিযোগে নারীকে ইউপি চেয়ারম্যানের জুতাপেটা, ভিডিও ভাইরাল ‘খাসি না পেয়ে বিয়ে ভাঙা’ সেই জুনায়েদ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিয়ে করে যা বললেন মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার ও হয়রানিমুক্ত পুলিশি সেবা নিশ্চিতে এএসআইদের নির্দেশনা ফেনীতে প্রতিবন্ধী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩ মহানগরজুড়ে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার -৫ পাঁচ দিনের যমজ মেয়ে ফেলে উধাও মা, দিশাহারা বাবা ৫ বছরের শিশুকে হত্যার পর ধর্ষণ করেন রবিউল, অতঃপর... ঝগড়া মীমাংসা করতে গিয়ে জামাইয়ের হাতে শ্বশুর খুন প্রতিবন্ধী কিশোরীকে নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গেলেন এসকেন, অতঃপর... কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরসহ বাংলাদেশি সাংবাদিক নিহত

রাজশাহীতে গ্যাস সংকটের কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং, বিপাকে হিমাগার মালিকেরা

  • আপলোড সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০৫:৫০:০৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০৫:৫০:০৮ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে গ্যাস সংকটের কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং, বিপাকে হিমাগার মালিকেরা রাজশাহীতে গ্যাস সংকটের কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং, বিপাকে হিমাগার মালিকেরা
রাজশাহীতে গ্যাস সংকটের কারণে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিকেরা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সংরক্ষিত আলু পচন থেকে রক্ষা করতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা জ্বালানি খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হিমাগার মালিকেরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি বর্তমানে সচল। এসব হিমাগারে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।

তবে চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক চাপের কারণে কিছু হিমাগারকে অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট—দুই কারণে আলু পচনের ঝুঁকি বেড়েছে। এরই মধ্যে তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকার তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়িভর্তি করে পচা আলু বের করে ফেলার চিত্র দেখা গেছে।

ওই হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছিল। এখন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।

তবে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী আলু পচনের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে দায়ী করছেন না। তাঁর দাবি, হিমাগার মালিকদের অব্যবস্থাপনার কারণেই আলু নষ্ট হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের কারণেই পচনের ঝুঁকি বেড়েছে। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ সময় আলু বের করে বাতাস দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু অতিরিক্ত আলু থাকায় অনেক হিমাগার এবার এই প্রক্রিয়া ঠিকভাবে করতে পারছে না।

তিনি জানান, রাজশাহীর আলাইবিদিরপুরে রহমান ব্রাদার্স-১ হিমাগারের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। একইভাবে প্রায় সব হিমাগারেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, মৌসুমের শুরুতে চাপের কারণে কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না এবং এতে আলুরও সমস্যা হচ্ছে না।

লোডশেডিংয়ের কারণে বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি অবশ্য স্বীকার করেছেন তিনি। ফজলুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলেও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগারের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জ্বালানি তেল ব্যবহার করে জেনারেটর চালাতে হয়। এতে প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এমনিতেই হিমাগারগুলোর বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশি। প্রতিটি হিমাগারকে মাসে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ যোগ হওয়ায় মালিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, গত বুধবার থেকে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। হিমাগারে বিদ্যুৎ সংকটজনিত সমস্যা হচ্ছে-এমন অভিযোগ জানিয়ে কেউ তাঁকে ফোন করেননি বলেও জানান তিনি।

হিমাগার মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন জেনারেটরের মাধ্যমে সামাল দেওয়া গেলেও অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি থাকলে পচন ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক-তিন পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি, জরুরি সভায় নানা অভিযোগ

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি, জরুরি সভায় নানা অভিযোগ