ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী ছাত্রলীগ নেতা আরাফ পলাতক বিদেশে; দেশে ফিরলেই চরম জীবননাশের ঝুঁকি
ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী ছাত্রলীগ নেতা আরাফ পলাতক বিদেশে; দেশে ফিরলেই চরম জীবননাশের ঝুঁকি
ছাত্রলীগের সাবেক নেতার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের খেসারত এখন গুনতে হচ্ছে তাঁর নিজ পরিবারকে। বিগত স্বৈরাচারী আমলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আরাফ বর্তমানে বিদেশে পলাতক জীবন কাটাচ্ছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গা ঢাকা দেওয়া এই দুধর্ষ ক্যাডার বিদেশে বসেও থেমে নেই; বরং দেশের বিরুদ্ধে বহুমুখী নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র ও উসকানিতে লিপ্ত রয়েছেন। তবে তাঁর এসব দুষ্কর্মের তীব্র আগুনে পুড়ছে তাঁর নিজ পরিবার, অন্যদিকে দেশে ফিরলে তার জন্য অপেক্ষা করছে চরম জীবননাশের ঝুঁকি।
উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র:
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এই নেতার ফেসবুক প্রোফাইল ও ডিজিটাল কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী এবং চরম উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। দেশকে অস্থিতিশীল করতে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে নানা ধরনের আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন। ককটেল বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়মিত উসকানি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, জামায়াত ও শিবিরকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে প্ররোচনা ছড়ানো, এনসিপি নেতাকর্মীদের 'রাজাকার' আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর হামলার উসকানি দেওয়া এবং বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের হুমকি, উসকানি এবং দেশকে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
অতীতে গড়ে তোলা ত্রাসের রাজত্ব ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ:
অনুসন্ধানে জানা যায়, আরাফের এই পরিণতির পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। বিগত স্বৈরাচারী আমলে তিনি এলাকায় ছাত্রলীগের একজন সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তাঁর প্রধান পেশা ও নেশা ছিল চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনা। তৎকালীন সময়ে তাঁর এসব বেপরোয়া ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে খোদ তাঁর নিজের বাবা কাজী হুমায়ূন কবিরও তাঁর ওপর চরম ক্ষিপ্ত ছিলেন। এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের মনে তাঁর বিরুদ্ধে জমা রয়েছে তীব্র ক্ষোভ।
পরিবারের ওপর নেমে আসা দুর্ভোগ ও পিতার আক্ষেপ:
বিদেশে বসে আরাফের এসব দুধর্ষ কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা থাকলেও এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে তাঁর দেশে থাকা পরিবারকে। ক্ষুব্ধ প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের রোষানলে পড়ে তাঁর পরিবার বর্তমানে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে রয়েছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা, অতীতে ছেলের গড়ে তোলা বিরোধের খেসারত এবং অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরিবারটির সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজী আরাফের পিতা কাজী হুমায়ূন কবির জানান, অতীতে ছেলের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেও অতিষ্ঠ ও ক্ষিপ্ত ছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উল্টো চিত্র তৈরি হয়েছে—ছেলের রাজনৈতিক পরিচয় ও নাশকতার খেসারত হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর ওপর চড়াও হয়েছে। গত আগস্টের পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজন তাঁর কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছে, চাঁদা না দেওয়ায় বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং তাঁকে প্রকাশ্য রাস্তায় লাঞ্ছিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টদের মতে, কাজী আরাফ দেশে ফিরলে কেবল তার অতীতের অপরাধ এবং কিশোর গ্যাং-মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার হিসাবই দিতে হবে না, বরং জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে তার চালানো নৃশংস উসকানি ও নাশকতার পরিকল্পনার কারণে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের তীব্র আক্রোশ ও জীবননাশের চরম ঝুঁকির মুখে পড়বেন তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Admin News
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ