‘আমাকে তোমার সঙ্গে নিয়ে চলো’—২০১৭ সালে প্রীতম হাসানের ‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওর এই সংলাপ যেন বাস্তব জীবনেও ভিন্ন অর্থ পেয়েছিল। ওই গানের শুটিংয়েই প্রীতম হাসানের সঙ্গে পরিচয় হয় শেহতাজ মনিরা হাশেমের। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০২২ সালের অক্টোবরে বিয়ের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করেন তারা। তবে প্রায় এক দশকের পরিচয় ও সম্পর্কের পর এবার আলাদা পথে হাঁটছেন প্রীতম ও শেহতাজ।
গত রোববার রাতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা পোস্ট দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার কথা জানান দুজন। পোস্টে পরস্পরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা জানিয়ে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেন তারা।
বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখী দম্পতি হিসেবেই দেখা গেছে প্রীতম ও শেহতাজকে। ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে তাদের উপস্থিতির ছবি নিয়মিত প্রকাশ পেয়েছে। ফলে হঠাৎ বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসায় বিস্মিত হন অনেকেই।
তবে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে আসেনি। সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আরও আগে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের তৃতীয়ার্ধ থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন স্পষ্ট হতে শুরু করে বলে দাবি করেছেন ঘনিষ্ঠজনেরা।
২০১৭ সালে ‘জাদুকর’-এর শুটিং থেকেই প্রীতম ও শেহতাজের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বন্ধুত্ব রূপ নেয় প্রেমে। পরে প্রীতম নিজেই জানিয়েছিলেন, ওই মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ের পরই শেহতাজকে বিয়ের কথা বলেছিলেন তিনি।
২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিয়ে করেন তারা। পাহাড় ও চা-বাগানে ঘেরা ওই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা। বিয়ের পোশাকের নকশাও নিজেই করেছিলেন শেহতাজ। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনাও হয়।
এরপর ২০২৩ সালে নিজেদের বাসায় ওঠেন প্রীতম-শেহতাজ। সংসারের পাশাপাশি নিজেদের কাজও চালিয়ে যাচ্ছিলেন দুজন। তবে সময়ের সঙ্গে পেশাগত জীবনেও পরিবর্তন আসে তাদের।
বিশেষ করে ‘তুফান’ সিনেমার মাধ্যমে প্রীতমের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে। সিনেমাটির গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আরও বড় পরিসরের দর্শকের কাছে পৌঁছান। বাড়তে থাকে স্টেজ শো, দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠান এবং ব্যস্ততা। এরপর ‘বরবাদ’-এর ‘চাঁদমামা’ ও ‘দ্বিধা’ এবং ‘প্রিন্স’-এর ‘জ্বালা জ্বালা’ গানও তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, প্রীতমের ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে দুজনের একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। একই সময়ে প্রীতমের আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন শেহতাজ—এমনটাই জানিয়েছেন তাদের কাছের কয়েকজন।
এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও মতবিরোধ বাড়তে থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি ঘনিষ্ঠজনদের। এমনকি এক ঘটনায় বন্ধুদের উপস্থিতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে।
তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আগে সেটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন দুজনই। কাছের মানুষদের কেউ কেউও আশা করেছিলেন, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
বিচ্ছেদের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি ও অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও জেফার রহমান ও রাফসান সাবাবের বিয়ের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তারা। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবির সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তবতার পার্থক্য ছিল বলেই মনে করছেন ঘনিষ্ঠজনেরা।
অন্যদিকে, বিয়ের আগে গান ও অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিয়ের পর শেহতাজ দুই মাধ্যম থেকেই অনেকটা নিজেকে গুটিয়ে নেন। সম্প্রতি তিনি কানাডায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। দেশে ফেরার পরই তাদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রায় এক দশকের পরিচয়, প্রেম, বিয়ে ও সংসারের পর এখন আলাদা পথে হাঁটছেন প্রীতম ও শেহতাজ। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পর দুজনই নিজেদের মতো করে নতুন জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শেহতাজ আবার অভিনয় ও গানে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে প্রীতমও নতুন গান ও সংগীতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত রোববার রাতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা পোস্ট দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার কথা জানান দুজন। পোস্টে পরস্পরের প্রতি সম্মান ও শুভকামনা জানিয়ে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেন তারা।
বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখী দম্পতি হিসেবেই দেখা গেছে প্রীতম ও শেহতাজকে। ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে তাদের উপস্থিতির ছবি নিয়মিত প্রকাশ পেয়েছে। ফলে হঠাৎ বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসায় বিস্মিত হন অনেকেই।
তবে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে আসেনি। সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আরও আগে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের তৃতীয়ার্ধ থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন স্পষ্ট হতে শুরু করে বলে দাবি করেছেন ঘনিষ্ঠজনেরা।
২০১৭ সালে ‘জাদুকর’-এর শুটিং থেকেই প্রীতম ও শেহতাজের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বন্ধুত্ব রূপ নেয় প্রেমে। পরে প্রীতম নিজেই জানিয়েছিলেন, ওই মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ের পরই শেহতাজকে বিয়ের কথা বলেছিলেন তিনি।
২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিয়ে করেন তারা। পাহাড় ও চা-বাগানে ঘেরা ওই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা। বিয়ের পোশাকের নকশাও নিজেই করেছিলেন শেহতাজ। বিয়ের ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনাও হয়।
এরপর ২০২৩ সালে নিজেদের বাসায় ওঠেন প্রীতম-শেহতাজ। সংসারের পাশাপাশি নিজেদের কাজও চালিয়ে যাচ্ছিলেন দুজন। তবে সময়ের সঙ্গে পেশাগত জীবনেও পরিবর্তন আসে তাদের।
বিশেষ করে ‘তুফান’ সিনেমার মাধ্যমে প্রীতমের ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে। সিনেমাটির গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আরও বড় পরিসরের দর্শকের কাছে পৌঁছান। বাড়তে থাকে স্টেজ শো, দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠান এবং ব্যস্ততা। এরপর ‘বরবাদ’-এর ‘চাঁদমামা’ ও ‘দ্বিধা’ এবং ‘প্রিন্স’-এর ‘জ্বালা জ্বালা’ গানও তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, প্রীতমের ব্যস্ততা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে দুজনের একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যায়। একই সময়ে প্রীতমের আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন শেহতাজ—এমনটাই জানিয়েছেন তাদের কাছের কয়েকজন।
এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও মতবিরোধ বাড়তে থাকে। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি ঘনিষ্ঠজনদের। এমনকি এক ঘটনায় বন্ধুদের উপস্থিতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ে।
তবে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আগে সেটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন দুজনই। কাছের মানুষদের কেউ কেউও আশা করেছিলেন, সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
বিচ্ছেদের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি ও অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও জেফার রহমান ও রাফসান সাবাবের বিয়ের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তারা। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবির সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তবতার পার্থক্য ছিল বলেই মনে করছেন ঘনিষ্ঠজনেরা।
অন্যদিকে, বিয়ের আগে গান ও অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিয়ের পর শেহতাজ দুই মাধ্যম থেকেই অনেকটা নিজেকে গুটিয়ে নেন। সম্প্রতি তিনি কানাডায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। দেশে ফেরার পরই তাদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
প্রায় এক দশকের পরিচয়, প্রেম, বিয়ে ও সংসারের পর এখন আলাদা পথে হাঁটছেন প্রীতম ও শেহতাজ। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পর দুজনই নিজেদের মতো করে নতুন জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শেহতাজ আবার অভিনয় ও গানে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে প্রীতমও নতুন গান ও সংগীতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তামান্না হাবিব নিশু