জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বগুড়ার পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উদযাপন করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্যে ছিল প্রবন্ধ পাঠ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী পর্ব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হোসনে-আরা বেগম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় প্রবন্ধ পাঠ ও আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিব উল মাওলা (মাওলা প্রিন্স) এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম। উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বগুড়ার সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. বেল্লাল হোসেন। এ পর্বে সেশন চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (ডেজিগনেট) প্রফেসর মুহাম্মদ মুনজুর মুরশিদুল আবেদীন।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল সেন্টার উদ্বোধন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান রোটা. ডা. মো. মতিউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. রফিকুল আহসান, রেজিস্ট্রার এস. এম. আব্দুল লতিফসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। তাঁর সাহিত্যকর্মে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম।
তাঁরা আরও বলেন, নজরুলের সৃষ্টিকর্ম কেবল সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার প্রসার এবং জাতীয় কবির আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করার অনুপ্রেরণা জোগাতেই এ আয়োজন করা হয়। নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতিনির্ভর নানা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাঁর মানবতাবাদী দর্শন, প্রতিবাদী চেতনা ও সাম্যের বাণী তুলে ধরা হয়।
বগুড়া প্রতিনিধি: