২০৩০ সালের মধ্যে বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব। এমন আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এর কিছুদিনের মধ্যেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাপান সরকারও। দুই দেশের সতর্কবার্তায় মিল থাকলেও উদ্বেগের কারণ ভিন্ন।
জাপানের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী গোষি হোসোনো জানিয়েছেন, আগামী ২ নভেম্বর নাগরিকদের উদ্দেশে একটি ‘জরুরি আবেদন’ জানানো হবে। জাপানের সংবাদমাধ্যম এফএনএনের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা ছাড়াই অন্তত তিন দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর মতো প্রস্তুতি রাখতে প্রতিটি পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হবে।
সম্ভব হলে এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় পানীয় জল, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার এবং শৌচাগারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বড় ধরনের ভূমিকম্প কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, পরিবহণ ও দোকানপাটের পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যাতে সাধারণ মানুষ কয়েক দিন নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
সরকারি পরামর্শ অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় তিন লিটার পানীয় জল মজুত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্তত তিন দিনের খাবারের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুযোগ থাকলে সাত দিনের খাবার ও পানীয় জল মজুত রাখার সুপারিশও রয়েছে।
খাবারের তালিকায় চাল, ক্যানজাত খাবার ও শুকনো খাবার রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শৌচাগারের বিকল্প ব্যবস্থাও জরুরি বলে জানিয়েছে সরকার। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় পাঁচবার ব্যবহারের উপযোগী পোর্টেবল টয়লেট বা বিশেষ টয়লেট ব্যাগ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু খাবার ও পানীয় জল নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবহারের জন্য একটি প্রস্তুত ব্যাগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। এতে টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, মোবাইল চার্জের জন্য পাওয়ার ব্যাংক, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ এবং জরুরি প্রয়োজনে নগদ টাকা রাখতে হবে।
জাপানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দেশটিতে বাড়িতে জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ নতুন নয়।
অন্যদিকে, জাপানের সতর্কবার্তার সঙ্গে ব্রিটেনের পরামর্শের মিল থাকলেও দেশটির উদ্বেগের মূল কারণ সামরিক নিরাপত্তা। শত্রু রাষ্ট্রের কার্যকলাপ, সম্ভাব্য হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে সতর্ক করেছে লন্ডন।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রু দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধকালীন অর্থনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যা ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠবে।
এ পরিস্থিতিতে সাইবার হামলা, অন্তর্ঘাত, ড্রোন হামলা এবং ব্যাংকিং, পরিবহণ ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকারের ‘বি রেডি’ কর্মসূচির আওতায় নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বনির্ভর থাকার মতো জরুরি সামগ্রী বাড়িতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই তালিকায় রয়েছে পানীয় জল, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, ব্যাটারিচালিত রেডিও এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য নগদ টাকা।
বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে কিংবা দৈনন্দিন পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে যাতে পরিবারগুলো তাৎক্ষণিক সংকটে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার।
সব মিলিয়ে, জাপান ও ব্রিটেনের সতর্কবার্তায় উঠে এসেছে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রস্তুতির গুরুত্ব। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে সামরিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, ভিন্ন আশঙ্কা থেকেই নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বনির্ভর থাকার প্রস্তুতি নিতে বলছে দুই দেশ।
জাপানের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী গোষি হোসোনো জানিয়েছেন, আগামী ২ নভেম্বর নাগরিকদের উদ্দেশে একটি ‘জরুরি আবেদন’ জানানো হবে। জাপানের সংবাদমাধ্যম এফএনএনের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি সহায়তা ছাড়াই অন্তত তিন দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর মতো প্রস্তুতি রাখতে প্রতিটি পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হবে।
সম্ভব হলে এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় পানীয় জল, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার এবং শৌচাগারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বড় ধরনের ভূমিকম্প কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, পরিবহণ ও দোকানপাটের পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যাতে সাধারণ মানুষ কয়েক দিন নিজেদের প্রয়োজন নিজেরাই মেটাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
সরকারি পরামর্শ অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় তিন লিটার পানীয় জল মজুত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্তত তিন দিনের খাবারের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সুযোগ থাকলে সাত দিনের খাবার ও পানীয় জল মজুত রাখার সুপারিশও রয়েছে।
খাবারের তালিকায় চাল, ক্যানজাত খাবার ও শুকনো খাবার রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শৌচাগারের বিকল্প ব্যবস্থাও জরুরি বলে জানিয়েছে সরকার। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় পাঁচবার ব্যবহারের উপযোগী পোর্টেবল টয়লেট বা বিশেষ টয়লেট ব্যাগ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শুধু খাবার ও পানীয় জল নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবহারের জন্য একটি প্রস্তুত ব্যাগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। এতে টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, মোবাইল চার্জের জন্য পাওয়ার ব্যাংক, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ এবং জরুরি প্রয়োজনে নগদ টাকা রাখতে হবে।
জাপানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দেশটিতে বাড়িতে জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ নতুন নয়।
অন্যদিকে, জাপানের সতর্কবার্তার সঙ্গে ব্রিটেনের পরামর্শের মিল থাকলেও দেশটির উদ্বেগের মূল কারণ সামরিক নিরাপত্তা। শত্রু রাষ্ট্রের কার্যকলাপ, সম্ভাব্য হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে সতর্ক করেছে লন্ডন।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রু দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধকালীন অর্থনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যা ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠবে।
এ পরিস্থিতিতে সাইবার হামলা, অন্তর্ঘাত, ড্রোন হামলা এবং ব্যাংকিং, পরিবহণ ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকারের ‘বি রেডি’ কর্মসূচির আওতায় নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বনির্ভর থাকার মতো জরুরি সামগ্রী বাড়িতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই তালিকায় রয়েছে পানীয় জল, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, ব্যাটারিচালিত রেডিও এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য নগদ টাকা।
বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে কিংবা দৈনন্দিন পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে যাতে পরিবারগুলো তাৎক্ষণিক সংকটে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার।
সব মিলিয়ে, জাপান ও ব্রিটেনের সতর্কবার্তায় উঠে এসেছে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রস্তুতির গুরুত্ব। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে সামরিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, ভিন্ন আশঙ্কা থেকেই নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বনির্ভর থাকার প্রস্তুতি নিতে বলছে দুই দেশ।
আন্তজার্তিক ডেস্ক