ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে এবার দেশটির স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পণ্যের পরিবহন সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য ইরানের অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহের পথ সংকুচিত করা এবং দেশটির অর্থের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সামগ্রী এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে কাজ করবে টাস্কফোর্সটি। এ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় হবে টাস্কফোর্স আয়রন গেটের সদর দপ্তর। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম)-এর অধীনে পরিচালিত হবে এই বিশেষ উদ্যোগ।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরানের জন্য নতুন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দেশটির সঙ্গে ইরাক, তুরস্ক, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের স্থলসীমান্ত রয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে ইরানের সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কিলোমিটার।
এ ছাড়া উত্তরে কাস্পিয়ান সাগরের সঙ্গে ইরানের প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার উপকূল রয়েছে। ফলে এসব স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরকে ব্যবহার করে সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য পণ্য পরিবহনের পথগুলোও মার্কিন নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসতে পারে।
এর আগে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের মাধ্যমে দেশটির সমুদ্রপথের বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করেছিল ওয়াশিংটন। এবার স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগরকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় তেহরানের ওপর মার্কিন চাপ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে টাস্কফোর্স গঠনের অর্থ এই নয় যে ইরানের সব ধরনের স্থলবাণিজ্যে সরাসরি অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। বরং অস্ত্র, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পণ্য, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
আন্তজার্তিক ডেস্ক