ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমের ক্যারেটে লুকিয়ে ১০০ বোতল এসকাফ পাচারের চেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে নৌকাসহ ভারতীয় সিরাপ জব্দ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী ওয়াসার নতুন এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী রাসিকের ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমে জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বস্তিতে ১১ নম্বর ওয়ার্ডবাসী চট্টগ্রামে ৮ মামলার পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার আরএমপির অপরাধ পর্যালোচনা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রাজশাহীতে বিএসটিআইর ভ্রাম্যমাণ আদালত, শামিম সুইটসকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী নগরীতে মাদক মামলায় এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদন্ড রাজশাহীতে দেড় কেজি হেরোইন-সহ গ্রেফতার ১৬ রাজশাহীতে মাদকের বিস্তার: ট্রানজিট রুটে সক্রিয় চক্র, গডফাদারদের গ্রেফতারের দাবি পাবনায় চালককে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাই করা অটোরিকশা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার যশোরে দুই ছেলে সরকারি কর্মকর্তা, মা তুলে খান বয়স্ক ভাতা তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে শিক্ষার্থীর মৃত্যু মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বর্ষায় ঘরের আর্দ্রতা কমাতে কোন কৌশল প্রয়োগ করলে বিদ্যুতের খরচ কমবে

শিশুর লালন-পালনে ইসলাম যে নির্দেশনা দিয়েছে

  • আপলোড সময় : ১০-১১-২০২৫ ০৩:৫৭:৩১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-১১-২০২৫ ০৩:৫৭:৩১ অপরাহ্ন
শিশুর লালন-পালনে ইসলাম যে নির্দেশনা দিয়েছে ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের সঙ্গে দয়া, অনুগ্রহ, স্নেহ ও দায়িত্ববোধ পালনে ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামে। মায়া-মমতা, আদর স্নেহের পাশাপাশি শিশুদের প্রতি সঠিক আচরণ করা ঈমানের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন
কোরআনের নির্দেশ স্পষ্ট—কোনো সন্তান যেন তার পিতা-মাতার ক্ষতির কারণ না হয়। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৩)। 

এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম একদিকে যেমন পিতা-মাতার অধিকার নিশ্চিত করেছে, তেমনি ইঙ্গিত দিয়েছে পিতা-মাতাও যেন সন্তানের প্রতি কোনো ধরনের ক্ষতি বা অবহেলা না করে।

ইসলাম স্বীকার করে, অনেক সময় পিতা-মাতা অতিরিক্ত স্নেহে কিংবা অবহেলায় ভুল করতে পারেন। তাই কোরআন ও হাদিসে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সন্তান আনন্দের উৎস এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা
কোরআন বলে, সন্তান একদিকে জীবনের আনন্দ ও আশীর্বাদ, অন্যদিকে অহংকার, উদ্বেগ ও পরীক্ষার কারণও হতে পারে। ইসলাম  শিক্ষা দিয়েছে, আল্লাহর দেওয়া এই নিয়ামতের প্রতি অতিরিক্ত গর্ব বা নির্ভরতা না দেখিয়ে আত্মিক সুখ ও বিনয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কই মূল। পিতা-মাতা বা সন্তান কেউই কিয়ামতের দিন অন্যের পাপ মোচন করতে পারবে না। প্রত্যেকেই নিজ কর্মের জন্য জবাবদিহি করবে।

শিশুর ধর্মীয় প্রকৃতি ও দায়িত্ব
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশু ইসলামী ফিতরাতে জন্মগ্রহণ করে; পরে তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা মজুসি বানায়।’ 
এই হাদিস ইসলামের একটি গভীর শিক্ষার দিকে ঈঙ্গিত করে। আর তাহলো শিশুর প্রকৃতি পবিত্র। তার এই পবিত্র প্রকৃতির বিকাশ নির্ভর করে পিতা-মাতার দিকনির্দেশনা ও পরিবেশের ওপর।

ইসলামে শিশুর মৌলিক অধিকার
ইসলাম শিশুদের জন্য কয়েকটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার নির্ধারণ করেছে।

প্রথমত : জীবনের অধিকার। একটি শিশুর জীবন সংরক্ষণ করা ইসলামের অন্যতম প্রধান নির্দেশনা।
দ্বিতীয়ত : বৈধ বংশপরিচয়ের অধিকার। প্রত্যেক শিশুর একজন পিতা থাকবে, এবং একাধিক পিতার দাবি করা যাবে না।
তৃতীয়ত : লালন-পালন, শিক্ষা ও সামাজিক যত্নের অধিকার। যা ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছে।

শিশুর যত্ন উত্তম সাদকা
শিশুদের যত্ন নেওয়া ইসলামে মহৎ কাজ হিসেবে গণ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি ছিলেন অগাধ মমতাপূর্ণ এবং বলেছেন, মুসলিম সমাজকে অন্যান্য জাতির মধ্যে দয়া ও স্নেহের জন্য পরিচিত হতে হবে।

শিশুর আধ্যাত্মিক বিকাশ, শিক্ষা ও সার্বিক কল্যাণে মনোযোগ দেওয়াকে ইসলাম উচ্চ মর্যাদার সাদকা হিসেবে গণ্য করে। জন্মের সপ্তম দিনে শিশুর নাম রাখা, মাথা মুন্ডন করা এবং পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয় নিয়মগুলো পালনের নির্দেশও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন।

সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব
শিশুর প্রতি দায়িত্ব শুধু পিতা-মাতার নয়, এটি একটি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বও। ইসলাম বলে, পিতা-মাতা জীবিত থাকুক বা না থাকুক, সন্তান যেন সর্বোচ্চ যত্ন পায় তা নিশ্চিত করা সমাজের কর্তব্য।

যদি নিকটাত্মীয় কেউ দায়িত্ব নিতে সক্ষম না হয়, তাহলে ওই শিশুর দেখভাল হবে পুরো মুসলিম সমাজের যৌথ দায়িত্ব এমনকি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ মিলে শিশুর দায়িত্ব পালন করবে।

ইসলাম শিশুর অধিকার পালনকে শুধু মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেনি, বরং একে একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছে। শিশুর লালন-পালন, শিক্ষা, নৈতিক দীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের নির্দেশিত সামাজিক দায়িত্ব।

শিশুরা সমাজের ভবিষ্যৎ; তাই তাদের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ ইসলামী সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি শিশুর হাসি সমাজের প্রকৃত মানবিকতার প্রতিফলন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Admin News

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী

দুই দিনের সরকারি সফরে আজ রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী