ঢাকা , শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রবাসীদের অর্থায়নে সোলার লাইটে আলোকিত হচ্ছে আগ-চারান গ্রাম কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নিয়োগ, বরখাস্ত শুধু আঞ্চলিক কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর অভিযোগ; এসআই বলছেন ভিত্তিহীন, তদন্তের আশ্বাস কমিশনারের এক বা দুই তালাকের পর স্ত্রীকে ফেরানোর উপায় মোদী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম বিক্ষোভকারীদের ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দিলে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল: হোয়াইট হাউস আমরা তোমাদের কলিজা খেয়ে ফেলব: মেসির স্ত্রী হিমাচল প্রদেশে ভূমিধসে পাথরের নীচে চাপা পড়ে ১৩ জনের মৃত্যুৃ কিশোরগঞ্জের সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থীসহ ২ জনের মৃত্যু ১২০০ ফলজ গাছ কেটে কৃষকে নিঃস্ব করে দিল বন বিভাগ ঊর্ধ্বমুখী কোলেস্টেরল! রাশ টানতে কোন ডাল খাবেন? হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু নীরব সংকটে বছরে প্রাণ হারায় প্রায় ১৮ হাজার মানুষ, অধিকাংশই শিশু পশ্চিম তীরে ব্যাপক সংঘর্ষ, ৪ ফিলিস্তিনিসহ নিহত ৫ জিম নয়, বেড়াতে গিয়ে ওজন ঝরান নায়িকা রশ্মি নাবা ফার্মার ৪ লাখ টাকা জরিমানা, থামছে না বিষ্ঠা ফেলা মহানগরীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারি গ্রেফতার ৭, আটক ২৪ রাজশাহীতে ২১তম ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৪ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জামালপুরে সিজারের সময় পেটে সুতা রেখেই সেলাই!

  • আপলোড সময় : ০৩-০১-২০২৬ ০৬:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০১-২০২৬ ০৬:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন
জামালপুরে সিজারের সময় পেটে সুতা রেখেই সেলাই! জামালপুরে সিজারের সময় পেটে সুতা রেখেই সেলাই!
জামালপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজার শেষে রোগীর পেটের ভেতরে সুতা রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে। 

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে জেলা শহরের বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে মালিকপক্ষের কাছে ভুক্তভোগী রোগী ও তার স্বজনরা এই অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী রোগীর নাম সুমাইয়া আক্তার (২১)। তিনি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পালোয়ান মিয়ার স্ত্রী।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৩ নভেম্বর রাতে সন্তান প্রসবের জন্য সুমাইয়াকে জামালপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি শাহীন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ওই রাতেই সিজার করেন মেডিকেল অফিসার ডা. দিল আফরোজ নিশা। 

সিজারের পর হাসপাতালে ৩ দিন ভর্তি থাকার পর রোগী ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। এরপর অবস্থা খারাপ হলে একাধিকাবার শাহীন জেনারেল হাসপাতালে সেবা নিতে গেলেও রোগী সুমাইয়া আক্তার কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। উল্টো রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। 

পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানা যায়, সিজারের সময় পেটের ভেতরে সুতা রেখেই সেলাই করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর রোগী ও তার স্বজনরা শাহীন জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু বিষয়টি আমলে না নিয়ে অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন।    

ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, সিজারের সময় অপারেশন থিয়েটারে হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন নিজেই সেলাই করেছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ৩ দিনই ব্যথা হয়েছে। হাসপাতালের মালিক শাহীন নিজেই ব্যথার ইনজেকশন দিয়েছেন। তিনদিন পর ছুটি দিলে চলে যাই, কিন্তু ব্যথা কমে না। 

তিনি আরও বলেন, সিজারের ক্ষতস্থান শুকাতে দেরি হওয়ায় একাধিকবার হাসপাতালে যাই। এমনকি সিজারের ১০ দিন পর যখন সেলাই কাটাতে যাই, তখনও ব্যথা ছিলো। ব্যথা ভালো হওয়ার জন্য ওষুধ খেতে হবে কিনা জানতে চাইলে হাসপাতালের মালিক শাহীন বলেন, ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। সেলাই কাটার ৪ থেকে ৫ দিন পর সিজারের ক্ষতস্থানে ফোঁড়া হয়ে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে আবার হাসপাতালে গেলে হাসপাতালের মালিক শাহীন নিজেই ড্রেসিং করে দেন এবং আমার স্বামী ও আমার মাকে ডেকে এনে বলে কোথায় পুঁজ বের হয়? কোথাও তো পুঁজ বের হয়নি। এছাড়াও তিনি আমার স্বামী ও আমার মায়ের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে অবস্থা আরও বেশি খারাপ হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়। তবে কয়েকদিন পর আবারও অন্যপাশে ফোঁড়া হয়ে পুঁজ বের হয়। এরপর আল্ট্রাসনোগ্রাম করে জানা যায়, সিজারের সময় ভেতরে সুতা রেখেই তারা সেলাই করেছে এবং ক্ষতস্থানে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

রোগীর স্বামী পালোয়ান মিয়া বলেন, দুই মাস ধরে আমার স্ত্রী ক্ষত নিয়ে ভুগছে। তার সিজারের সময় পেটের ভেতর সুতা রেখে সেলাই করেছে। আমি আমার স্ত্রীর সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।  

রোগীর স্বজন কুসুম ইসলাম বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম করে রিপোর্ট গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল হোসেনকে দেখালে তিনি জানিয়েছেন সিজারের সময় রোগীর পেটে সুতা রেখেই সেলাই করা হয়েছে। এজন্য ইনফেকশন হয়েছে। পরে শাহীন জেনারেল হাসপাতালে অভিযোগ নিয়ে গেলে হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, তার কিছুই করার নেই। আমরা যেন নিজেদের মত চিকিৎসা করাই।

শাহীন জেনারেল হাসপাতালের মালিক শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। সিজারের পর সমস্যা নিয়ে আসলে তার স্বামীকে দেখানো হয়েছে যে, কোনো সমস্যা নেই। দুই মাস পর মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ নিয়ে এসেছে। তার আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট স্বাভাবিক আছে। তারপরও তাকে গাইনী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছি।  

এ বিষয়ে জানতে ডা. দিল আফরোজ নিশার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরিদর্শনে গিয়ে দেখি প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত নয়। তখন মুচলেকা নিয়ে হাসপাতালের মালিককে জানিয়ে দিই, এক বছর পর ওই ভবনে হাসপাতাল চলতে পারবে না। 

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের মালিক অপারেশন থিয়েটারে কাজ করতে পারবেন না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টানা বৃষ্টিতে তানোরে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ

টানা বৃষ্টিতে তানোরে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে নিম্ন আয়ের মানুষ