নীরব সংকটে বছরে প্রাণ হারায় প্রায় ১৮ হাজার মানুষ, অধিকাংশই শিশু

আপলোড সময় : ২৪-০৭-২০২৬ ০৬:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৭-২০২৬ ০৬:৫৪:৫৫ অপরাহ্ন
আগামী কাল (২৫ জুলাই) বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে এবারের প্রতিপাদ্য Unite to Turn the Tide, যার বাংলা অর্থ-আসুন, সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্রোত থামাই। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ভিডিও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট শিশু পুকুরে ডুবে যাওয়ার সময় প্রাণপণ বাঁচার চেষ্টা করছে। পাশে থাকা আরেকটি শিশু চিৎকার করে সাহায্য চাইছে এবং পানিতে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে বন্ধুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আশপাশে লোকজন থাকলেও দীর্ঘ সময় কেউ ঘটনাটি টের পাননি। পরে একজন ব্যক্তি উদ্ধার করতে এগিয়ে এলেও শিশুটির শেষ পরিণতি ভিডিওতে জানা যায়নি। ঘটনাটি আবারও শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের জনস্বাস্থ্য সংকটের প্রতিফলন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এদের একটি বড় অংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল অঞ্চলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। এর প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নতুন জলাশয় সৃষ্টি হওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে বাড়ির কয়েক মিটারের মধ্যেই থাকা পুকুর, ডোবা বা জলাশয়ে। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিভাবকেরা গৃহস্থালি বা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকায় শিশুরা অনেক সময় নজরদারির বাইরে চলে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের অসতর্কতাই একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাস্তবে পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তি, বিশেষ করে শিশুরা, সাধারণত চিৎকার বা হাত নেড়ে সাহায্য চাইতে পারে না। তাই এ ধরনের দুর্ঘটনাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নীরব কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অধিকাংশ মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে, শিশুদের কখনোই পানির কাছে একা না রাখা, বাড়ির আশপাশের জলাশয়ে নিরাপত্তা বেড়া নির্মাণ, কমিউনিটিভিত্তিক ডে-কেয়ার চালু করা, বিদ্যালয়ে সাঁতার ও পানি নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং উদ্ধারকৌশল ও কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান।

বাংলাদেশে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (CIPRB)-এর উদ্যোগে পরিচালিত আঁচল এবং SwimSafe কর্মসূচি ইতোমধ্যে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমাতে ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গণসচেতনতামূলক প্রচার এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য। সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ, নিরাপত্তা শিক্ষা এবং কার্যকর সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে পানিতে ডুবে মৃত্যুর মতো এই নীরব সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]