সম্পর্কে সুখ নেই, তবু ছেড়ে যেতে পারেন না? এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বিশেষ কারণ!

আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৬:১৭:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৬:১৭:৪৪ অপরাহ্ন
সম্পর্কে সুখী নন। যা যা চেয়েছিলেন, তা পাননি। যা যা পেয়েছেন, তা চাননি। অতীব সাধারণ বাক্যালাপ ছাড়া আর কোনও কথাই প্রায় হয় না। ‘খেয়েছ’, ‘ঘুমিয়েছ’, ‘দিনটা কেমন গেল’ ছাড়া আর কিচ্ছুটি পড়ে নেই, যা নিয়ে কথা বলবেন। বললেও কান থেকে মর্মে পৌঁছোবে কি না, তা জানেন না। তবু সেই সম্পর্কের গাড়ি চলছে। ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়ে চলেছে। কোন দিকে, কেউ জানেন না।

আপনি জানেন, সম্পর্কে ভাল নেই। প্রতি দিন অশান্তি, মানসিক দূরত্ব বা একাকিত্ব— সবই রয়েছে, যা থাকার নয়। তবু সেই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কল্পনাতেও আসে না। আসলে বাইরে থেকে বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, আদপে ততটা নয়। ধরা যাক, একে অপরের প্রতি আর প্রেমও ততটা নেই। তার পরেও কী কারণে বেরোনো যায় না সম্পর্ক থেকে?

মনোবিদ আত্রেয়ী ভট্টাচার্যের মতে, সুখী এবং অসুখী দাম্পত্য বা সম্পর্কের সংজ্ঞাটা খানিক আপেক্ষিক। এক এক জনের কাছে এই মাপকাঠি ভিন্ন ভিন্ন। যদি সম্পর্কে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তা হলে তা যন্ত্রণাদায়ক, তা সকলের জন্যই অসুখী। আবার যদি দেখা যায়, শারীরিক বা যৌন নির্যাতন নেই, কিন্তু ভালবাসার ঘাটতি রয়েছে, অশ্রদ্ধা রয়েছে, অসম্মান রয়েছে, তা হলে সেটিও অসুখী সম্পর্ক বলে দাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সেখানে তো মানসিক নির্যাতন থাকতে পারে। অনেক সময়ে জমি হারানোর ভয়, একাকিত্বের ভয়, একা লড়াই করার ভয় থেকেও নির্যাতন সহ্য করে সম্পর্কে থেকে যাচ্ছেন অনেকে। মনোবিদের কথায়, ‘‘আবার সুখী দাম্পত্য বা সম্পর্ক কাকে বলে? পারস্পরিক হৃদ্যতা, বন্ধুত্ব, সম্মান রয়েছে, অথচ ভালবাসা নেই, সেটিও কারও কাছে সুখী হতে পারে, কারও কাছে অসুখী হতে পারে। কেবল বিশ্বাস, মায়া ও স্নেহের জেরে আনন্দে থেকে যেতে পারেন দু’টি মানুষ। কেউ আবার ভালবাসা না থাকাটাকেই অসুখের কারণ হিসেবে দেখতে পারেন।’’ অর্থাৎ কার কী প্রয়োজন, কার কী দাবি, চাহিদা, তার উপর নির্ভর করে সুখী এবং অসুখী সম্পর্কের সংজ্ঞা।

যখন সেই সব মাপকাঠিকে বিচার করে কোনও সম্পর্ককে অসুখী বলে চিহ্নিত করা হয়, তখনও অনেকে সম্পর্ক ভেঙে বেরোতে পারেন না। তা হলে তার কারণ কী কী হতে পারে?

মনোবিদদের মতে, বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে এর নেপথ্যে—

১. সবচেয়ে বড় কারণগুলির একটি হল, একা হয়ে যাওয়ার ভয়। অনেকেই মনে করেন, এই সম্পর্ক ভেঙে গেলে হয়তো আর কাউকে খুঁজে পাবেন না বা নতুন করে জীবন শুরু করা সম্ভব হবে না। শুরু হয় অনিশ্চয়তার আশঙ্কা। সেই আশঙ্কাই তাঁদের অসুখী সম্পর্কে আটকে রাখে বছরের পর বছর।

২. তা ছাড়া একটা সম্পর্কে বহু দিন পর্যন্ত থাকার পর সেটি অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়। তখন আর সেই মানুষটিকে ছাড়া ভাবা যায় না। তবে সঙ্গীর থেকে দূরে যাওয়ার চেয়েও বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে কাল্পনিক ভবিষ্যৎ থেকে দূরে চলে যাওয়া। আপনি নিজের জন্য যে ভবিষ্যৎটি ভেবেছিলেন, তাকে আবারও বদলে ফেলতে হবে, এই ভয়টাও কাজ করতে পারে। সে ভাবেই অনিশ্চয়তার ভয় গ্রাস করে।

৩. আরও একটি বড় কারণ হল, সম্পর্কে আবেগ, সময় বিনিয়োগ করার অনুভূতি ঘিরে ধরে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে দিলে এত বছরের স্মৃতি, ত্যাগ এবং একসঙ্গে কাটানো সময় যেন বৃথা হয়ে যাবে— এমন ভাবনা তৈরি হতে পারে। তখন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হয়ে ওঠে।

৪. আশাও এখানে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আপনি হয়তো আশা করে চলেন, সম্পর্ক আবার শুরুর সময়ের মতো সুন্দর হয়ে উঠবে। সঙ্গী হয়তো আপনার গুরুত্ব বুঝবেন। একটা আশ্চর্য বদলের আশাও সম্পর্কে রেখে দেয় মানুষকে। দিনের পর দিন। সেই আশা হয়তো কখনও দীর্ঘ দিন পর মুছে যায়, কখনও বা সারা জীবনেও মোছে না।

মনোবিদদের মতে, সব অসুখী সম্পর্কই ভেঙে ফেলার প্রয়োজন নেই। অনেক সম্পর্কেই খোলামেলা কথা বলা, একে অপরকে মন দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদারের সাহায্য নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি ভাল করা যেতে পারে। কিন্তু যদি সম্পর্কে নিয়মিত মানসিক, শারীরিক বা অন্য কোনও ধরনের নির্যাতন চলতে থাকে, তা হলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসাই সবচেয়ে জরুরি।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]