‘তেহরানের অনুরোধের পর ইরানের উপর হামলার পরিকল্পনা বাতিল’! ঘোষণা ট্রাম্পের

আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০৫:২৫:৫৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০৫:২৫:৫৮ অপরাহ্ন
ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ায় তার মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। এমনই জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সঙ্গে বিরোধে জড়িত দেশগুলি যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চুক্তি করতে আগ্রহী। শুধু তা-ই নয়, ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিতে আমেরিকার শর্তও মানবে বলে জানিয়েছে তারা।

কোন কোন শর্তের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্পের দাবি, আসন্ন চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার বিষয়টিরও উল্লেখ থাকবে। তাঁর কথায়, ‘‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পুরোপুরি প্রস্তুত আমেরিকা। তবে ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্য দেশগুলি যে কোনও ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকতে আমাদের অনুরোধ করেছে।’’ তার পরেই চুক্তির কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুদ্ধ বন্ধ করতে যে চুক্তি হবে, তাতে মূলত দু’টি শর্তের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এক, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা আর দুই, ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘বিশ্বের ভবিষ্যতের স্বার্থে অনুরোধে সাড়া দিয়েছি।’’ তিনি মনে করেন, ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার ক্ষমতা আমেরিকার আছে। তবে ট্রাম্প চান, ইরান টিকে থাকুক। আর সেই কারণে আবার চুক্তি করার শর্তে আসন্ন হামলার পথ থেকে সরে আসছে আমেরিকা। শুধু আমেরিকা নয়, ইজরায়েলও চুক্তি করতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর উপদেশ, ‘‘দ্রুত কাজ (চুক্তি বাস্তবায়িত করার প্রক্রিয়া) শুরু করো। অবিলম্বে কাজটা শেষ করতে হবে।’’

যদিও ট্রাম্পের নয়া দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইরানের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অতীতেও ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তির চেষ্টা হয়েছিল। কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনাও হয়েছিল ইরান-আমেরিকার মধ্যে। দু’দেশই নিজের নিজের শর্ত রেখেছিল। এমনকি দু’দেশের মধ্যে সমঝোতাপত্রও (মউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে শেষপর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তার মধ্যেই আবার নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় পশ্চিম এশিয়ায়।

জর্ডনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। আমেরিকা দাবি করেছিল, ইরান সেনাবাহিনীর ইশারায় ইরাক থেকে হামলা চালানো হয়েছে। তার পর থেকে আমেরিকাও প্রত্যাঘাত শুরু করে। সেই পরিস্থিতিতে শুক্রবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উপরে আর ‘ভরসা’ রাখতে পারছেন না তিনি। তাই ইরানের উপর আরও জোরালো হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তা সূত্র উদ্ধৃত করে ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছিল, এই সপ্তাহান্তেই (শনি বা রবিবার) ইরানে হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগন (মার্কিন যুদ্ধ দফতর)-কে তেমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানে যে ফের হামলা হতে পারে, সেই আভাস মিলেছিল ট্রাম্পের বক্তব্যেও। মেরিল্যান্ডে আয়োজিত ক্যাবিনেট বৈঠকে তিনি বলেন, “আমরা ওদের উপর জোরালো আঘাত হানব। এমন হাল করে দেব যাতে ওরা বলে, আর সহ্য করতে পারছি না।” তবে সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]