বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজশাহী প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত রাজশাহী রিজিওনাল কনফারেন্স অন অ্যাগ্রো প্রসেসিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উত্তরবঙ্গের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এ বিশেষ পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা, আর এ যাত্রায় উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প বড় ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনা করে না; বরং উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ ধারণার ভিত্তিতে স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঋণের সুদের হার ৫ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ অর্থায়ন এবং সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন পুনরর্থায়ন ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বর্তমানে চালু রয়েছে।
বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে লাইসেন্স গ্রহণ থেকে কারখানা স্থাপন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ সেবার মাধ্যমে প্রশাসনিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, পঞ্চগড় থেকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজশাহীতে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি উদ্যোক্তাদের আলু থেকে স্টার্চ ও এপিআই উৎপাদন এবং আমের বহুমুখী ব্যবহারকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নীতিগত ধারাবাহিকতা, কর কাঠামোর সংস্কার এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। এছাড়া রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, আরএমপি কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এক নজরে ঘোষিত উদ্যোগ
উত্তরবঙ্গের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনরর্থায়ন তহবিল।
২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য।
এক গ্রাম এক পণ্য উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূলভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ঋণ।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ অর্থায়ন।
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ও পুনরর্থায়ন কর্মসূচি।
লাইসেন্স থেকে কারখানা স্থাপন পর্যন্ত ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা।
আগামী ২–৩ বছরের মধ্যে ডুয়াল গেজ রেলপথ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
উত্তরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব।
আলু, আমসহ কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজনভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজশাহী প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত রাজশাহী রিজিওনাল কনফারেন্স অন অ্যাগ্রো প্রসেসিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উত্তরবঙ্গের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এ বিশেষ পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা, আর এ যাত্রায় উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প বড় ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা পরিচালনা করে না; বরং উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ ধারণার ভিত্তিতে স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঋণের সুদের হার ৫ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ অর্থায়ন এবং সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন পুনরর্থায়ন ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বর্তমানে চালু রয়েছে।
বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে লাইসেন্স গ্রহণ থেকে কারখানা স্থাপন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ সেবার মাধ্যমে প্রশাসনিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, পঞ্চগড় থেকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজশাহীতে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি উদ্যোক্তাদের আলু থেকে স্টার্চ ও এপিআই উৎপাদন এবং আমের বহুমুখী ব্যবহারকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নীতিগত ধারাবাহিকতা, কর কাঠামোর সংস্কার এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। এছাড়া রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, আরএমপি কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত ও নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এক নজরে ঘোষিত উদ্যোগ
উত্তরবঙ্গের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনরর্থায়ন তহবিল।
২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্য।
এক গ্রাম এক পণ্য উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূলভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ঋণ।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিশেষ অর্থায়ন।
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ও পুনরর্থায়ন কর্মসূচি।
লাইসেন্স থেকে কারখানা স্থাপন পর্যন্ত ডিজিটাল সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা।
আগামী ২–৩ বছরের মধ্যে ডুয়াল গেজ রেলপথ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
উত্তরাঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব।
আলু, আমসহ কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজনভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার আহ্বান।