শরীয়তপুরের সখিপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণীকে চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সময় তার মাথার চুল কেটে দেওয়া, গলায় জুতার মালা পরানো এবং লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই তরুণীর দুই ভাই-বোনকেও কয়েক ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর প্রভাবশালীদের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
সখিপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সখিপুর থানাধীন ছৈয়াল কান্দি এলাকার আবুল মোল্লার ছেলে মুদি দোকানদার মনির মোল্লার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পাশের বাড়ির ফারিয়া আক্তার (১৮) নামের ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ফারিয়া তার ১৩ বছর বয়সী বোন মারিয়া আক্তার ও ৭ বছর বয়সী ভাই ফাহিমকে সঙ্গে নিয়ে মনির মোল্লার মুদি দোকানে কেনাকাটা করতে যান। অভিযোগ, এ সময় মনির মোল্লা ফারিয়াকে বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা বলেন এবং কুপ্রস্তাব দেন। এতে প্রতিবাদ করলে তাকে পাশের ফৌজিয়া সরদারের বাড়িতে নিয়ে একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এরপর তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, গলায় জুতার মালা পরানো হয় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময়ে তার ভাই-বোনকেও দোকানের পাশের একটি ঘরে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফারিয়া আক্তার বলেন, “প্রায় সময় দোকানদার মনির মোল্লা আমাকে কুপ্রস্তাব দিতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর যেতে বলেন। আমি রাজি না হওয়ায় আমার হাতে জোর করে একটি আরসি বোতল ধরিয়ে দিয়ে আমাকে চোর বানানো হয়। এরপর গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।”
দুপুর ১২টার দিকে সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ফারিয়ার মা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। এখন এই ঘটনার পর মেয়েকে বিয়ে দেব কীভাবে?”
ভুক্তভোগীর বাবা ফারুক বেপারী বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হয়েছে। মামলা করার পর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোফাজ্জাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আফসানা ও আমীর হোসেন নামে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।