ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একটি কারখানায় রাতভর জোরালো হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কিয়েভ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা, আবাসিক ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কিয়েভ-১১ ‘ফায়ার পয়েন্ট’ নামের একটি সামরিক উৎপাদনকেন্দ্রে সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। রুশ দাবি অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরি ও সংস্কার করা হতো।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, ব্রোভারি জেলায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন, যানবাহন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি বাণিজ্যিক ভবনেও আগুন ধরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একাধিক বিস্ফোরণ এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
জ্বালানি ডিপোতেও হামলার দাবি
কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপোতে হামলার দাবিও করেছে মস্কো। রাশিয়ার দাবি, ওই ডিপো থেকে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, ভালোসিভস্কি জেলায় দুটি গ্যারেজ ও একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ওবোলনস্কি জেলার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন দমকলকর্মীরা।
ন্যাটো সীমান্তের কাছে ড্রোন বিস্ফোরণ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত এলাকাতেও। বুলগেরিয়ার কার্দাম গ্রামের কাছে একটি সূর্যমুখী ক্ষেতে একটি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে। ড্রোনটি ইউক্রেনীয় নাকি রুশ—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রোমানিয়া সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ। তবে ঘটনাস্থলটি ট্রান্স-বলকান গ্যাস পাইপলাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্রেসর স্টেশন থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৩৯৭ ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংসের দাবি
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, গত রাতে ইউক্রেনের ৩৯৭টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওদেসার পূর্বে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী ইউক্রেনের দুটি মালবাহী জাহাজে হামলার কথাও জানিয়েছে মস্কো।
তবে যুদ্ধরত দুই পক্ষের দেওয়া সামরিক দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইন্টারসেপ্টর সংকটে ইউক্রেন
এদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির মুখে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিয়েভ লক্ষ্য করে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিয়েভে রুশ হামলায় ১৭ জন নিহত হন। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা সীমিত থাকায় রাশিয়ার কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে রাশিয়া থেকে নিক্ষেপ করা ১৯৫টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ইউক্রেন মাত্র ২৯টি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিল।
এদিকে শুক্রবার ওদেসার ৩৪ হাজার আসনবিশিষ্ট ঐতিহাসিক ‘চোরনোমোরতেস’ ফুটবল স্টেডিয়ামেও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্টেডিয়ামের ছাদ, গ্যালারি এবং মূল কাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কিয়েভ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বাড়ায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি