পুনর্বাসন ছাড়া রাজশাহীর বস্তি উচ্ছেদ বন্ধের দাবি

আপলোড সময় : ১০-০৮-২০২৬ ০৪:৪৮:৪২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৮-২০২৬ ০৪:৪৮:৪২ অপরাহ্ন

রাজশাহী নগরের নামোভদ্রা লেকপাড় বস্তিসহ বিভিন্ন বস্তি এলাকায় বসবাসরত ভূমিহীন ও নিম্নআয়ের মানুষদের পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে বস্তি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

আজ বেলা ১২টার দিকে নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রিন কোয়ালিশনের একটি প্রতিনিধিদল রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করে। বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শাহানা আক্তার জাহান। পরে এর অনুলিপি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছেও দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, উন্নয়ন ও নগর ব্যবস্থাপনার নামে কোনো মানুষকে গৃহহীন করা যায় না। সংবিধান, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থানের অধিকার রয়েছে। তাই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া কোনো বস্তি উচ্ছেদ মানবিক, ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধান হতে পারে না।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নদীভাঙন, খরা, বন্যা, ভূমিহীনতা, কর্মসংস্থানের সংকট ও দারিদ্র্যের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রাম ছেড়ে রাজশাহী নগরে এসে বসতি গড়েছেন। নগরে বসবাস করেও তারা নিরাপদ বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বস্তিশুমারী ও ভাসমান লোকগণনা-২০১৪-এর তথ্য তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়, ওই সময় রাজশাহী শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০৪টি বস্তিতে ৩৯ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করতেন। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় এক লাখে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়। বস্তিবাসীদের বড় একটি অংশ রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও দিনমজুর হিসেবে নগরের অর্থনীতি ও সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

রাজশাহীকে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ুসহনশীল ও টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নগর দরিদ্র মানুষের নাগরিক ও আবাসন অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—
১. পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে নামোভদ্রা লেকপাড় বস্তিসহ রাজশাহীর কোনো বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না।
২. রাজশাহীর সব বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব আবাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৩. বস্তিবাসীদের পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. উচ্ছেদসংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করতে হবে।
৫. নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন অধিকারকে স্থানীয় ও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে হবে।

স্মারকলিপিতে গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী অঞ্চলের সভাপতি ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি মো. বাচ্চু মিয়া এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন।

এছাড়া পৃথক স্মারকলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল, রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]