বেনাপোল-ঢাকা মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, দ্রুত চার লেনের দাবি

আপলোড সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৪:২২:১৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৪:২২:১৫ অপরাহ্ন

পদ্মা ও মধুমতী সেতু চালুর পর বেনাপোল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল অংশের প্রায় ৭০ কিলোমিটার সড়ক এখনও সরু ও খানাখন্দে ভরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের বেহাল দশায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে হতাহত।

ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পর কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দীর্ঘ অংশে পর্যাপ্ত প্রশস্ততা না থাকায় বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মাঝেমধ্যে ইট-বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করলেও বৃষ্টিতে তা আবার নষ্ট হয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।

সরু সড়কে ক্রসিং ও ওভারটেকিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে কিংবা অন্য যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। এতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে।

সওজ সূত্র জানায়, পদ্মা ও মধুমতী সেতু চালুর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৭ জুন পর্যন্ত বেনাপোল-নড়াইল মহাসড়কে ছোট-বড় ৮০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১২০ জন।

নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও চালক জাহাঙ্গীর বলেন, ওভারটেকিং ও ক্রসিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে অথবা অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। বর্তমানে মহাসড়কটি খানাখন্দে ভরা। দ্রুত সংস্কার না করলে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হতে পারে।

নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান বলেন, পদ্মা ও মধুমতী সেতুর কারণে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংযোগ মহাসড়ক সরু হওয়ায় সেই সুবিধা অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পথচারী, যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তিনি দ্রুত সড়ক প্রশস্ত করার দাবি জানান।

সওজ নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ভাটিয়াপাড়া-বেনাপোল সড়কটি নড়াইল জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। বর্তমানে সড়কটির প্রশস্ততা মাত্র ২৪ ফুট। হঠাৎ করে সড়কটির ব্যস্ততা ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। সাময়িকভাবে নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যাল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে সড়কটি স্থায়ীভাবে প্রশস্ত করার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা-মাওয়া-নড়াইল-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের কালনা এলাকায় মধুমতী নদীর ওপর দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতী সেতু উদ্বোধন করা হয়। এরপর ঢাকা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন নড়াইল রুট ব্যবহার করছে।

তবে সেতুর সংযোগ সড়কগুলো আধুনিক ও প্রশস্ত হলেও এর সঙ্গে যুক্ত কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের বড় অংশ এখনও সরু। ফলে পদ্মা ও মধুমতী সেতুর পূর্ণ সুফল পেতে দ্রুত এই মহাসড়ক সংস্কার ও চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]