রাজশাহী মহানগরীর অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী মো. ফাহিম আলীর পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতে সোমবার নগর ভবনে ফাহিমের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে ফাহিমের শিক্ষা অর্জনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন রাসিক প্রশাসক।
মো. ফাহিম আলী মহানগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বনগ্রাম চকপাড়া এলাকার মো. পিন্টুর ছেলে। তার বাবা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ফাহিম থাই গ্লাসের দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছে।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইউসেফ ছোটবনগ্রাম সিটি কর্পোরেশন টেকনিক্যাল স্কুল থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ফাহিম। মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করে সে।
সম্প্রতি ফাহিমকে নিয়ে মাছরাঙা টেলিভিশনে ‘জিপিএ-৫ পেয়েও জীবনের হিসেব মেলাতে পারছে না ফাহিম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর তার সংগ্রাম ও মেধার কথা জানতে পারেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
পরে ফাহিমের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। সোমবার নগর ভবনে ফাহিমের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়ে তার শিক্ষা জীবন অব্যাহত রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাসিক প্রশাসক।
এ সময় ফাহিমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, জীবনের প্রতিকূলতা যেন তার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জন করে নিজের স্বপ্ন পূরণে ফাহিমকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ফাহিমের মতো মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের পাশে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে তাদের শিক্ষাজীবন আরও সুন্দর ও সম্ভাবনাময় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।