৭ বার কান ধরে ওঠবস করিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা, অতঃপর...

আপলোড সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ১২:২৪:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ১২:২৪:০৩ অপরাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার এক চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এই অপরাধের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে মাত্র সাতবার কান ধরে ওঠবস করিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই বিচারে ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত যুবকের নাম জাহিদুর ইসলাম (২৪)। তিনি ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুরা গ্রামের মাইজম বাড়ি এলাকার সফিল মিয়ার ছেলে এবং পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ওই কিশোরীকে ডেকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন ভাঙা ঘরে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে কিশোরী ঘরে ফিরে তার বড় বোনকে পুরো বিষয়টি জানায়। এ কথা কাউকে বললে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন অভিযুক্ত।

পরদিন সকালে কিশোরীর বড় ভাই ঘটনাটি নিয়ে জাহিদুলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উল্টো চড়াও হন এবং মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে পরিবারটি স্থানীয় এক গ্রাম্য সর্দারের শরণাপন্ন হয়। এরপর সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতেই এক সালিশ বৈঠক বসানো হয়, যেখানে স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন। সালিশে জাহিদুলকে মাত্র সাতবার কান ধরে ওঠবস করিয়ে বিচার কার্য সম্পন্ন ঘোষণা করা হয়।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই জানান, তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী না হলেও মানসিক ও আচরণগত দিক থেকে অত্যন্ত সহজ-সরল। পরিস্থিতি বোঝার মতো ক্ষমতা তার নেই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই জঘন্য অপরাধ করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানান, কিশোরীকে ভর্তির পরপরই প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং গাইনি কনসালটেন্টকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকের চূড়ান্ত পরীক্ষার পরেই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]