রাজশাহীর বিভিন্ন হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলু পচতে শুরু করেছে। এতে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও হতাশা। আলু পচনের জন্য হিমাগার মালিকদের অব্যবস্থাপনা ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণকে দায়ী করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে হিমাগার মালিকদের দাবি, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে এবং জেনারেটর চালিয়ে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে তাঁদের।
চাষিদের অভিযোগ, হিমাগারগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করায় পচন দেখা দিয়েছে। এখন নিজেদের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা আড়াল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। তাঁরা আলু পচনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে অধিকতর তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সচল। এসব হিমাগারে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক নেতাদের চাপেও কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়ি ভর্তি করে পচা আলু বের করা হচ্ছে। ওই হিমাগারে আলু রেখেছিলেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছিল। এখন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে আলু পচছে-এমনটা তাঁরা মনে করেন না। হিমাগার মালিকদের অব্যবস্থাপনা এবং মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের কারণেই আলু নষ্ট হচ্ছে।
সংগঠনটির সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, মূল সমস্যা ওভারলোডিং। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ সময় আলু বের করে বাতাস দেওয়াও প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত আলু রাখার কারণে অনেক হিমাগার এবার নিয়মিতভাবে এ কাজ করতে পারছে না। ফলে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাজশাহীর আলাই বিদিরপুরের রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, জেলার প্রায় সব হিমাগারেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তবে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ফজলুর রহমান এসব অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে চাপের কারণে কিছু হিমাগারকে অতিরিক্ত আলু নিতে হয়েছিল। তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না এবং এ কারণে আলু পচছে—এমনটিও তিনি মনে করেন না।
লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগার মালিকদের ব্যয় বেড়েছে জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগার ঠাণ্ডা থাকে। তবে এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালাতে হয়। এক ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয়। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হিমাগারগুলোকে মাসে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে জেনারেটরের খরচ যোগ হওয়ায় মালিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, গত বুধবার থেকে লোডশেডিং কমে গেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। হিমাগারে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে কেউ তাঁকে ফোনও করেননি। কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও হিমাগারগুলোতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলু পচনের প্রকৃত কারণ নিয়ে চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে ক্ষতির মুখে পড়ছেন মূলত আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে পচনের কারণ নির্ধারণ এবং দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।
চাষিদের অভিযোগ, হিমাগারগুলোর নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করায় পচন দেখা দিয়েছে। এখন নিজেদের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা আড়াল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। তাঁরা আলু পচনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে অধিকতর তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৯টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সচল। এসব হিমাগারে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক হিমাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে রাজনৈতিক নেতাদের চাপেও কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ড স্টোরেজ থেকে প্রতিদিন গাড়ি ভর্তি করে পচা আলু বের করা হচ্ছে। ওই হিমাগারে আলু রেখেছিলেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছিল। এখন লোডশেডিংয়ের কারণে আলু ঘেমে পচে যাচ্ছে। পচে যাওয়া আলু ফেলে দিতে হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে আলু পচছে-এমনটা তাঁরা মনে করেন না। হিমাগার মালিকদের অব্যবস্থাপনা এবং মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের কারণেই আলু নষ্ট হচ্ছে।
সংগঠনটির সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, মূল সমস্যা ওভারলোডিং। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ সময় আলু বের করে বাতাস দেওয়াও প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত আলু রাখার কারণে অনেক হিমাগার এবার নিয়মিতভাবে এ কাজ করতে পারছে না। ফলে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাজশাহীর আলাই বিদিরপুরের রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, জেলার প্রায় সব হিমাগারেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তবে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ফজলুর রহমান এসব অভিযোগ পুরোপুরি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে চাপের কারণে কিছু হিমাগারকে অতিরিক্ত আলু নিতে হয়েছিল। তবে হিমাগার ব্যবস্থাপনায় বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না এবং এ কারণে আলু পচছে—এমনটিও তিনি মনে করেন না।
লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগার মালিকদের ব্যয় বেড়েছে জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগার ঠাণ্ডা থাকে। তবে এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালাতে হয়। এক ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয়। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, হিমাগারগুলোকে মাসে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে জেনারেটরের খরচ যোগ হওয়ায় মালিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার রমেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, গত বুধবার থেকে লোডশেডিং কমে গেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। হিমাগারে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে কেউ তাঁকে ফোনও করেননি। কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও হিমাগারগুলোতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলু পচনের প্রকৃত কারণ নিয়ে চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে ক্ষতির মুখে পড়ছেন মূলত আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে পচনের কারণ নির্ধারণ এবং দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।