জামালপুর শহরের একটি ভাড়া বাসার বদ্ধ রুম থেকে ইসরাত জাহান রিমা (২৫) নামের এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের দক্ষিণ কাচারিপাড়া এলাকার স্বপ্নপুরী আবাসিক এলাকার বকুল ভিলা ভবনের একটি রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
রিমা জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি গ্রামের মো. রশিদুজ্জামান মণ্ডল ও সাহিদা বেগমের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন-চার মাস আগে রিমা ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। বাসা নেওয়ার সময় তিনি নিজেকে বিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন। গত তিন-চার দিন ধরে তার কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পাশের বাসার লোকজন বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান।
পরে বাড়ির মালিক রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং দুর্গন্ধ বের হতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রিমার মরদেহ দেখতে পান তারা।
রিমার পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে রিমার বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তার একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সন্তানকে প্রথম স্বামীর কাছে রেখে রিমা বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর এলাকার জেবু তালুকদারের ছেলে শুভর সঙ্গে রিমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রিমাকে আশেক মাহমুদ কলেজে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে শুভর পরিবারের সদস্যরা এ বিয়ে মেনে নেননি। পরে শুভর বাবা তাকে অন্যত্র বিয়ে দেন।
পরিবারের দাবি, এরপরও শুভর সঙ্গে রিমার যোগাযোগ ও একসঙ্গে বসবাস অব্যাহত ছিল। তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে মুঠোফোনে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হতো। কিছুদিন আগে শুভ কম্বোডিয়ায় গেলেও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পরও রিমার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পরিবারের দাবি, গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে ছিলেন।
রিমার পরিবারের অভিযোগ, শুভর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়ে থাকতে পারে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে রিমা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রিমার সহপাঠী সানজিদা আফরিন বলেন, ‘রিমা অনেক মেধাবী ছিল। তাকে কখনো মন খারাপ করতে দেখিনি। সবার সঙ্গে মিশত।’
বাসার মালিক মোবারক হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রায় চার মাস আগে রিমা বাসা ভাড়া নেন। বাসা নেওয়ার সময় তিনি নিজেকে বিবাহিত এবং সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। রিমা আশেক মাহমুদ কলেজে পড়াশোনা করতেন।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মনোয়ার হুসেন মুরাদ বলেন, ‘রিমার মর্মান্তিক খবরটি শুনে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। রিমা আমাদের বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এখনো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হোক এবং সত্য সামনে আসুক, সেটিই প্রত্যাশা।’
জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। পরে বদ্ধ কক্ষের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
রিমা জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি গ্রামের মো. রশিদুজ্জামান মণ্ডল ও সাহিদা বেগমের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন-চার মাস আগে রিমা ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। বাসা নেওয়ার সময় তিনি নিজেকে বিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন। গত তিন-চার দিন ধরে তার কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পাশের বাসার লোকজন বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান।
পরে বাড়ির মালিক রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং দুর্গন্ধ বের হতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রিমার মরদেহ দেখতে পান তারা।
রিমার পরিবারের সদস্যরা জানান, এর আগে রিমার বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তার একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সন্তানকে প্রথম স্বামীর কাছে রেখে রিমা বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর এলাকার জেবু তালুকদারের ছেলে শুভর সঙ্গে রিমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর রিমাকে আশেক মাহমুদ কলেজে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে শুভর পরিবারের সদস্যরা এ বিয়ে মেনে নেননি। পরে শুভর বাবা তাকে অন্যত্র বিয়ে দেন।
পরিবারের দাবি, এরপরও শুভর সঙ্গে রিমার যোগাযোগ ও একসঙ্গে বসবাস অব্যাহত ছিল। তাদের মধ্যে মাঝেমধ্যে মুঠোফোনে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হতো। কিছুদিন আগে শুভ কম্বোডিয়ায় গেলেও ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতায় দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পরও রিমার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পরিবারের দাবি, গত সপ্তাহেও তারা একসঙ্গে ছিলেন।
রিমার পরিবারের অভিযোগ, শুভর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়ে থাকতে পারে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে রিমা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রিমার সহপাঠী সানজিদা আফরিন বলেন, ‘রিমা অনেক মেধাবী ছিল। তাকে কখনো মন খারাপ করতে দেখিনি। সবার সঙ্গে মিশত।’
বাসার মালিক মোবারক হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রায় চার মাস আগে রিমা বাসা ভাড়া নেন। বাসা নেওয়ার সময় তিনি নিজেকে বিবাহিত এবং সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। রিমা আশেক মাহমুদ কলেজে পড়াশোনা করতেন।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মনোয়ার হুসেন মুরাদ বলেন, ‘রিমার মর্মান্তিক খবরটি শুনে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। রিমা আমাদের বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এখনো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হোক এবং সত্য সামনে আসুক, সেটিই প্রত্যাশা।’
জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। পরে বদ্ধ কক্ষের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।