বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জানাজা হলো ছিনতাইকারীর টানে নিহত শিক্ষিকার

আপলোড সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০৭:৫৫:০৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-০৮-২০২৬ ০৭:৫৫:০৫ অপরাহ্ন
রাজধানী ঢাকায় ছিনতাইকারীর ব্যাগ ধরে হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রাণ হারান বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন।

চোখের চিকিৎসা করাতে ঢাকায় গিয়ে ছিনতাইকারীর টানে জীবন হারানো এই শিক্ষিকার মরদেহ রোববার সকালে ফিরেছে তার দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের কর্মস্থলে। 

রোববার (৩০ আগস্ট) বাদ জোহর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অশ্রুসিক্ত চোখে শেষবারের মতো প্রিয় শিক্ষিকাকে বিদায় জানান সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

যে বিদ্যালয়ে জীবনের ৩৫ বছরেরও বেশি সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় কাটিয়েছেন তিনি, সেই প্রিয় কর্মস্থলেই শেষবারের মতো ফিরলেন রনজিলা পারভিন। তবে এবার তিনি ফিরলেন মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে।

মরদেহ বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্বজনরা। শেষবারের মতো প্রিয় শিক্ষিকাকে দেখতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। শোকের ভারে নীরব হয়ে পড়ে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

রনজিলা পারভিন যে চেয়ারে বসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবতেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, সেই চেয়ারটিই এখন যেন তার অনুপস্থিতির নির্মম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রিয় শিক্ষিকাকে শেষবারের মতো দেখতে যাওয়া বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ম্যাডাম আমাদের খুব ভালোবাসতেন। সব সময় পড়াশোনার খোঁজ নিতেন। আমরা কখনও ভাবিনি ম্যাডামকে এভাবে শেষবারের মতো দেখতে হবে। ম্যাডাম আর কোনো দিন আমাদের ক্লাসে আসবেন না এটা ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে।

আরেক শিক্ষার্থী রবিউল আলম বলেন, ম্যাডাম আমাদের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন। কোনো ভুল করলে বুঝিয়ে দিতেন, ভালোভাবে পড়াশোনা করার পরামর্শ দিতেন। আজ ম্যাডামের মরদেহ দেখে বিশ্বাস করতে পারছি না তিনি আর আমাদের মাঝে নেই।

শনিবার ভোরে স্বামী মতিউর রহমানের সঙ্গে চোখের চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে ঢাকায় যান রনজিলা পারভিন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে তিনি রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার মধ্যরাতে রনজিলা পারভিনের মরদেহ বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে রোববার সকালে মরদেহ নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

নিহত রনজিলা পারভিনের ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বোন চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিল। কে জানত চিকিৎসা করাতে গিয়ে এভাবে মরদেহ হয়ে ফিরতে হবে। একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

প্রথম জানাজা শেষে রনজিলা পারভিনের মরদেহ নেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে। সেখানে বাদ আছর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]