বিলাসবহুল হোটেলের শৌচাগারে কমোডের পাশে থাকে একটি ফোন। আপনি কি কখনও খেয়াল করেছেন? দামি হোটেলের বাথরুমে ঢুকেছেন, বিলাসবহুল বাথটাব, ঝকঝকে আয়না, আর ঠিক কমোডের পাশে দেওয়ালে একটা টেলিফোন ঝুলছে! মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, এই যুগে যেখানে সবার হাতে মোবাইল, সেখানে শৌচাগারে আবার ল্যান্ডফোন কেন? কেউ কি বাথরুমে বসে অফিসের মিটিং করেন নাকি?
আসলে এর সঙ্গে আপনার সুরক্ষার সম্পর্ক আছে।
এর আসল নাম ‘ইমার্জেন্সি ফোন’। ধরুন শৌচাগারের ভিজে মেঝেতে পা পিছলে আপনি পড়ে গেলেন, পা ভাঙলো বা কোমরে চোট পেলেন। আপনি চিৎকার করছেন, কিন্তু বাইরে কেউ শুনতে পাচ্ছে না, কারণ দরজা বন্ধ, ঘরটা অনেক বড়। আপনার মোবাইলটা আবার বাইরে বিছানায় চার্জে বসানো। তখন আপনি কী করবেন? তখন কমোডের পাশের ওই ফোনটাই তখন আপনাকে বাঁচাবে। ওতে কোনও নম্বর ডায়াল করতে হয় না, শুধু রিসিভার তুললেই বা একটা লাল বোতাম টিপলেই সরাসরি রিসেপশন বা হোটেলের ইমার্জেন্সি টিমের কাছে কল চলে যায়। তা ছাড়া অনেক বয়স্ক মানুষ হোটেলে থাকেন। শৌচাগারে স্নানের সময় কোনও রকম শারীরিক অসুবিধা বোধ করলে তখন ওই ফোনটাই ভরসা। সোজা কথায়, এটা ফোন নয়, এটা বাথরুমের ভিতরের আপৎকালীন ঘণ্টা বা কলিং বেল।
আশির দশকে, যখন ল্যান্ডলাইন ফোনও সবার বাড়িতে ছিল না, তখন বিলাসবহুল হোটেলের শৌচাগারে ফোন থাকাটা ছিল তাঁদের ‘স্টেটাস সিম্বল’। তার পর এল মোবাইলের যুগ। ফোনের স্টেটাস সিম্বল হয়ে থাকার যুগ ফুরোল। কিন্তু ফোনটা রয়ে গেল, শুধু তার মানে বদলে গেল। এখন ওটা আর বিলাসিতা নয়, ওটা হয়ে গিয়েছে সুরক্ষার হাতিয়ার। অতিথির প্রত্যাশা বদলেছে। এখন মানুষ সবার আগে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। তাই পুরনো দিনের বিলাসিতার প্রতীকটাই এখন হয়ে গিয়েছে নতুন যুগের এমার্জেন্সি টুল। প্রযুক্তি বদলেছে, অতিথির চাহিদা বদলেছে, হোটেলের নিরাপত্তার নিয়মও বদলেছে—আর এই সব বদলের সাক্ষী হয়ে দেওয়ালে ঝুলে আছে শৌচাগারে রাখা ওই সামান্য টেলিফোনটা।
আসলে এর সঙ্গে আপনার সুরক্ষার সম্পর্ক আছে।
এর আসল নাম ‘ইমার্জেন্সি ফোন’। ধরুন শৌচাগারের ভিজে মেঝেতে পা পিছলে আপনি পড়ে গেলেন, পা ভাঙলো বা কোমরে চোট পেলেন। আপনি চিৎকার করছেন, কিন্তু বাইরে কেউ শুনতে পাচ্ছে না, কারণ দরজা বন্ধ, ঘরটা অনেক বড়। আপনার মোবাইলটা আবার বাইরে বিছানায় চার্জে বসানো। তখন আপনি কী করবেন? তখন কমোডের পাশের ওই ফোনটাই তখন আপনাকে বাঁচাবে। ওতে কোনও নম্বর ডায়াল করতে হয় না, শুধু রিসিভার তুললেই বা একটা লাল বোতাম টিপলেই সরাসরি রিসেপশন বা হোটেলের ইমার্জেন্সি টিমের কাছে কল চলে যায়। তা ছাড়া অনেক বয়স্ক মানুষ হোটেলে থাকেন। শৌচাগারে স্নানের সময় কোনও রকম শারীরিক অসুবিধা বোধ করলে তখন ওই ফোনটাই ভরসা। সোজা কথায়, এটা ফোন নয়, এটা বাথরুমের ভিতরের আপৎকালীন ঘণ্টা বা কলিং বেল।
আশির দশকে, যখন ল্যান্ডলাইন ফোনও সবার বাড়িতে ছিল না, তখন বিলাসবহুল হোটেলের শৌচাগারে ফোন থাকাটা ছিল তাঁদের ‘স্টেটাস সিম্বল’। তার পর এল মোবাইলের যুগ। ফোনের স্টেটাস সিম্বল হয়ে থাকার যুগ ফুরোল। কিন্তু ফোনটা রয়ে গেল, শুধু তার মানে বদলে গেল। এখন ওটা আর বিলাসিতা নয়, ওটা হয়ে গিয়েছে সুরক্ষার হাতিয়ার। অতিথির প্রত্যাশা বদলেছে। এখন মানুষ সবার আগে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। তাই পুরনো দিনের বিলাসিতার প্রতীকটাই এখন হয়ে গিয়েছে নতুন যুগের এমার্জেন্সি টুল। প্রযুক্তি বদলেছে, অতিথির চাহিদা বদলেছে, হোটেলের নিরাপত্তার নিয়মও বদলেছে—আর এই সব বদলের সাক্ষী হয়ে দেওয়ালে ঝুলে আছে শৌচাগারে রাখা ওই সামান্য টেলিফোনটা।