ফরম পূরণের টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও. পরীক্ষার আগে উৎকণ্ঠায় ৯১ শিক্ষার্থী

আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৫:৪২:০৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৫:৪২:০৫ অপরাহ্ন
পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ৯১ শিক্ষার্থী। তাদের ফরম পূরণের জন্য নেওয়া টাকার একটি বড় অংশ কলেজের ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর গত ৪ আগস্ট থেকে তার আর কলেজে দেখা মিলছে না। এ ঘটনায় প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা।

তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, অর্থ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় পড়বে না। ৯১ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

কলেজ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণের সময় ৯১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। জনপ্রতি ৪ হাজার ৯৩৯ টাকা হিসাবে মোট আদায় হয় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকা। এরমধ্যে কলেজের প্রাপ্য ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৯ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে হিসাব পর্যালোচনা করে ওই অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা জানিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে হিসাবের অসঙ্গতি সামনে আসে। এরমধ্যে ৪ আগস্ট থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ১২ আগস্ট ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শামীন আকতার।

অভিযোগে অর্থের পাশাপাশি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়েও উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ইংরেজি বিভাগের কিছু গোপনীয় নথি, শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র এবং রেজিস্টার খাতা আনোয়ার হোসেনের কাছে রয়েছে। তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে অনুপস্থিত থাকায় এসব নথির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এদিকে আনোয়ার হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন আলোচনা চলছে। ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে উপজেলার ৩ নম্বর কাজীহাল ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদ প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। তবে এসব পোস্টের দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, আনোয়ার হোসেন তাদের কাছে অপরিচিত কেউ নন। ইংরেজি বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে বিভিন্ন প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা তার সহযোগিতা নিতেন। পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার, মেহেদী হাসান, সজিব বিশ্বাস ও মিলন রায় বলেন, ফরম পূরণের টাকা নিয়ে তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন, এমন খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা চিন্তিত। তাদের আশঙ্কা, ফরম পূরণের বিষয়ে কোনো জটিলতা থাকলে তা পরীক্ষার সময় সমস্যার কারণ হতে পারে।

তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান হাবীব বলেন, ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ফলে ৯১ শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, কলেজের হিসাবে জমা না দেওয়া ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকার বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]