পদ্মার পানি বাড়ছে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি

আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৬:২৩:০০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৬:২৩:০০ অপরাহ্ন
পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে পদ্মার পানি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ০৩ মিটার। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। ফলে বিপৎসীমার মাত্র ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

রোববার সকাল ৯টায় একই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১ সেন্টিমিটার। কয়েক দিন ধরে পাহাড়ি ঢল এবং ফারাক্কা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার কারণে পদ্মায় পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তীরবর্তী মানুষের মধ্যে। পাশাপাশি সাঁড়া ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের শত শত একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে কলা, গাজর, মুলা, করলা ও বিভিন্ন সবজির আবাদ করা হয়েছিল।

সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মাতীরবর্তী সাঁড়া ঘাট, ইসলামপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি রক্ষা বাঁধ অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় তীরবর্তী বাসিন্দারা রয়েছেন আতঙ্কে।

সাঁড়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাঁড়া ঘাট এলাকায় নদীর কোনো রক্ষা বাঁধ নেই। পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। কোমরপুর, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়ার মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বেড়েছে। নদীতীরের ফসলি জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।’

লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের দাদাপুর গ্রামের শরীফ হোসেন বলেন, ‘চরাঞ্চলের শত শত একর জমি এখন পানির নিচে। এসব জমিতে কলা, গাজর, মুলা, করলাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়েছিল।’

চরাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে গোখাদ্যের সংকট। চরে থাকা গরু-মহিষের বাথান ভেঙে অনেকে গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে আসছেন। এ ছাড়া লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ৩০টির বেশি ইটভাটায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে ভাটাগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সোমবার সকালে সরেজমিনে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির ১৫টি গার্ডারের মধ্যে ১৪টি পানির নিচে রয়েছে। অপর গার্ডারের কাছেও পানি উঠে এসেছে। পানি বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই সেটিও পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা চা, খাবার, ফলমূল ও খেলনার দোকানগুলোতেও পানি উঠতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকান সরিয়ে নিয়েছেন।

ব্রিজের নিচের ফুচকা বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেখানে আমার ফুচকার দোকান ছিল, সেখানে পানি উঠে গেছে। তাই দোকান সরিয়ে নিয়েছি। পানি বাড়ায় ব্রিজের নিচে এখন দর্শনার্থীরাও আসতে পারছেন না।’

স্থানীয় বাসিন্দা আতিয়ার রহমান (৪৫) বলেন, পানি বেড়েছে শুনে দেখতে এসেছি। এসে দেখলাম ব্রিজের নিচের অস্থায়ী দোকানগুলোতে পানি উঠেছে। অনেকেই দোকান সরিয়ে নিচ্ছেন।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (রিডার) সেতু আক্তার বলেন, সোমবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৩ মিটার। রোববার একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। সোমবার পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৩ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com