ঝরঝরে চেহারা, ঝকঝকে ত্বকের জন্য ভরসা রাখুন ঘুমে!

আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৫:৪০:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৫:৪০:৫৩ অপরাহ্ন
নাহ, ডায়েট কিংবা শারীরচর্চার দরকার নেই। পুজোয় ‘গ্ল্যামারাস’ দেখানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার্লারে না কাটালেও চলবে। চার দিনের সাজের জন্য এক মাসের কৃচ্ছ্রসাধন না-ই বা করলেন! পুজোয় যাঁরা ঠাটে-ঠমকে, কেতাদুরস্ত সাজগোজে বাকিদের থেকে এগিয়ে থাকতে চান, নির্ঝঞ্ঝাট আরাম করেও ‘মোক্ষ’ লাভ করতে পারেন তাঁরা! শুধু একটু ঘুমোতে হবে।

ঘুম ব্যাপারটাকে এই ব্যস্তসমস্ত জীবনে বড়ই অবহেলা করা হয়। অথচ তারকাদের দেখুন, তাঁদের কথা শুনুন, কৃতি শ্যানন হোন বা আলিয়া ভট্ট কিংবা কিয়ারা আডবাণী— প্রত্যেকেই বলেছেন, তাঁরা সময়ে ঘুমোতে যান। পর্যাপ্ত ঘুমোন। ঘুমের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা নয়।

শুধু নায়িকারা নন। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের গুণগান করেছেন ফিটনেস সচেতন এবং হালে অনেকখানি ওজন ঝরিয়ে খবরের শিরোনামে আসা বলিউডের তারকারাও। রাম কপূর, গণেশ আচারিয়া, রোহিত বোস— এঁরা প্রত্যেকেই বলেছেন, তাঁদের রোগা হওয়ার রুটিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ঘুমের। ভাবুন তো, তাবড় তারকারা, যাঁদের দেখে অনুপ্রাণিত হন লক্ষ লক্ষ মানুষ, তাঁরাও সুস্থ থাকার জন্য বা সুন্দর থাকার জন্য বিরাট কিছু করছেন না। যা করছেন তা সবচেয়ে সহজ। বিনামূল্যে পাওয়া যায়— ঘুম।

মুশকিল হল, এ যুগে ওই অতীব সহজ জিনিসটিকেই পেতে হয় সাধ্যসাধনা করে। বদলে যাওয়া অভ্যাস, বদলে যাওয়া পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির দৌলতে কয়েক ঘণ্টার শান্তির ঘুমও জুটছে না কপালে। স্মার্টফোনে চুম্বকের মতো আটকে থাকার কারণে হোক বা রাত জেগে ল্যাপটপে কাজ অথবা নানা রকমের দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ অধিকাংশ মানুষকেই সময়ে এবং সময়মতো ঘুমোতে দিচ্ছে না। ফলে বিশ্রাম পাচ্ছে না শরীর। নিজেকে মেরামত করার সময় পাচ্ছে না শরীরের কলকব্জাগুলি। তরতাজা হয়ে উঠতে পারছে না কোষ। একটু একটু করে অবনতির পথে এগোচ্ছে স্বাস্থ্য। বাড়ছে রোগ। তার ছাপ পড়ছে ত্বকে-চুলে, আসছে অকালবার্ধক্য।

অথচ যদি নিয়ম করে ঘড়ি ধরে পর্যাপ্ত ঘুমোতে পারেন, তবে এক মাসেই শরীরে চোখে পড়বে পার্থক্য। অনেক বেশি ঝরঝরে বোধ করবেন। ওজন তো কমবেই। পাশাপাশি, আয়নার সামনে দাঁড়ালে দেখবেন, চেহারা খোলতাই হয়েছে, বেড়েছে গ্ল্যামার, ঝকঝক করছে ত্বক।

কেউ যদি ভিতর থেকে শরীরকে সুস্থ করতে চান, তবে এক মাসের একটা ঘুমের রুটিন বানিয়ে ফেলুন।

কী করতে হবে?

১। যা-ই হোক না কেন রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১ টার মধ্যে বিছানায় যান।

২। ঘুমোনোর আধ ঘণ্টা আগে ফোন বন্ধ করে বিছানা থেকে দূরে রাখুন।

৩। ঘুমোনোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া শেষ করুন।

৪। হজমের সমস্যা থেকে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। রাতে হালকা খান।

৫। শোয়ার আধ ঘণ্টা আগে ক্যামোমাইল চা বা ঈষদুষ্ণ জলে আদা মিশিয়ে খান।

৬। শোয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করুন, ঈষদুষ্ণ জলে গা ধুতেও পারেন।

৭। ঘর অন্ধকার করে ঘুমোন। মৃদু আলো জ্বালালেও, তা যেন চোখে না পড়ে।

৮। শোয়ার আগে পারলে স্নায়ু শিথিল করে ৫ মিনিট ধ্যান করুন।

৯। মৃদু ‘হোয়াইট নয়েজ’ বা মন শান্ত করার সুর শুনতে পারেন।

১০। সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠুন। কুসুম গরম জলে লেবু দিয়ে পান করুন।

কী উপকার পাবেন?

ত্বকের জন্য: রাত ১১টা থেকে ৩টের মধ্যে শরীরের সমস্ত মেরামতির কাজ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হয়। ওই সময়ে ত্বকের কোষ বিভাজনের হার সবচেয়ে বেশি থাকে। সারা দিনের দূষণ এবং সূর্যের আলো থেকে ত্বকের যে ক্ষতি হয়, তা ওই সময়েই মেরামত হয়। তা ছাড়া ওই সময়ে শরীর নতুন কোলাজেনও তৈরি করে।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে: উপরোক্ত ঘুমের রুটিন যদি নিয়মিত মেনে চলা যায়, তবে সারা দিনে খুব অনিয়ম না করলে ওজন কমবে। কারণ, ঘুমোনোর ওই অভ্যাস বিপাকের হার ভাল রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় ধরে গভীর ঘুম ক্যালোরি ঝরানোর ক্ষেত্রেও বেশ উপকারী।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]