ফুলবাড়ীতে পাটের উৎপাদন ও ভালো দামে খুশি কৃষক

আপলোড সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৫:২৬:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৫:২৬:৩৭ অপরাহ্ন
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় এবার পাটের উৎপাদন ভালো হলেও পাট চাষে খরচও বেশি হয়েছে। তবে বাজারে দাম বেশি পাওয়ায় পাটচাষিরা এবার লাভবান হয়েছেন। এতে পাটচাষিদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

দৌলতপুর ইউনিয়নের হরহরিয়ারপাড় গ্রামের পাট চাষি মতিউর রহমান, নূর নবী, আইনুল ইসলাম ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামের পাট চাষি দেলোয়ার হোসেন সহ উপজেলা কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর এই সময়ে প্রতি মণ পাট ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছিল। এতে কৃষকদের প্রতি মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মতো লোকসান হয়েছিল। কিন্তু এবার মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায়। এতে কৃষকদের এবার প্রতি মণে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা লাভ হচ্ছে।

উপজেলার আটপুকুরহাট সহ কয়েকটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, রিকশাভ্যান ও ইজিবাইকে করে পাট নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। পাটের মান অনুযায়ী দরদাম করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মোক্তারপুর গ্রামের কৃষক এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। ওই জমি থেকে ৮ মণ পাট পেয়েছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা। ৩ হাজার ৯০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করেছেন ৩১ হাজার ২০০ টাকায়। এতে তার লাভ হয়েছে ১৮ হাজার ২০০ টাকা।

একই গ্রামের কৃষক মঈনুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর পাটের ফলন তেমন ভালো হয়নি। পাট চাষ করে লোকসান হচ্ছিল। তবে এ বছর ফলন ও দাম দুটিই ভালো পেয়েছেন। এক বিঘা জমিতে তোষা জাতের পাট চাষ করে ১৯ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।

আলু চাষের ক্ষতি পাট দিয়ে কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হরহরিয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, আলু চাষে লোকসান গুনে ২০ শতক জমিতে পাট চাষ চাষ করেছেন। এবার পাটে আলুর কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

পাটের আড়তদার শান্ত কুন্ডু বলেন, পাটের বাজার ভালো রয়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আড়তে বেচাকেনা হচ্ছে। এতে এ বছর পাট চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, চলতি মৌসুমে ৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদও হয়েছে সমপরিমাণ জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১১ মেট্রিক টন বা ৬০৮ বেল পাট। ইতোমধ্যেই ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ করে ফেলেছেন কৃষক। কাটা জমি থেকেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পাট পাওয়া গেছে। এখনও অবশিষ্ট ১০ ভাগ জমির পাট কাটা বাকি রয়েছে।

এ বছর লাভ হওয়ায় আগামী সৌমুমে উপজেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করে তিনি আরও বলেন, এ বছর পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষকদের তেমন সমস্যা হয়নি। ভালো বাজারদরের কারণে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]