ভেজা শাড়িতে পর্দায় আগুন! লাস্যে, স্বল্পবাসে উত্তাপ ছড়িয়েছিলেন আশির দশকের বলিউডের যে সাহসিনীরা

আপলোড সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ০৫:৪১:২৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ০৫:৪১:২৪ অপরাহ্ন
কিছু দিন ধরে সমাজমাধ্যমের পাতায় চোখ রাখলে মনে হচ্ছে যেন আশির দশক আবার ফিরে এসেছে। টাইম মেশিনে চড়ে নয়, চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই এবং অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করেই পুরনো দিনে ফিরে যাচ্ছেন কোটি কোটি সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী। নিজেদের এখনকার ছবিকে এক বিশেষ ‘রেট্রো পোর্ট্রেট’-এ রূপান্তর করে আপলোড করছেন নেটমাধ্যমে, আর মুহূর্তের মধ্যে সেই সব ছবি ভাইরালও হচ্ছে। আর এই নস্টালজিয়ার হাওয়াই উস্কে দিচ্ছে বলিউডের আশির দশকের নায়িকাদের ‘বোল্ড’ লুকের স্মৃতি।

শিফনের শাড়ি, ব্যাকলেস ব্লাউজ, ডিস্কো গাউন আর গাঢ় লাল লিপস্টিক — আশির দশকে নায়িকাদের হাত ধরেই সে অর্থে বলিউডের ফ্যাশনে বোল্ডনেস এসেছে। জীনত অমান থেকে রেখা, পরবীন বাবী থেকে শ্রীদেবী— নায়িকাদের সেই সাহসী লুক আজ এআই-এর হাত ধরে ফিরেছে নতুন করে। একঝলকে দেখে নিন আশির দশকের নায়িকাদের আইকনিক স্টাইল লুক, যা আজও ফ্যাশনে হিট।

জীনত অমান: সালটা ১৯৮০। বড়পর্দায় মুক্তি পেল ‘কুরবানী’। আর সেই ছবিতেই ডিস্কো-গ্ল্যাম লুকে ঝড় তুললেন জীনত অমান।

সোনালি ডিপ-নেক বডিকন ড্রেসে ‘আপ জৈসা কোঈ মেরী জিন্দগী মেঁ আয়ে’ গানের ছন্দে তাঁর সেই কোমর দোলানো পারফরম্যান্স আজও বলিউডের ডিস্কো যুগের আইকন হয়ে আছে।

মন্দাকিনী: ১৯৮৫ সালে মুক্তি পাওয়া রাজ কাপুরের ‘রাম তেরী গঙ্গা মৈলী’ ছবিতেই বলিউডে পা রাখেন মন্দাকিনী। প্রথম ছবিতেই তাঁর লুক নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি।

প্রথম ছবিতে ঝর্নার নীচে সাদা শাড়িতে ভেজা শরীরে তাঁর স্নানের দৃশ্য আশির দশকে তুমুল আলোড়ন ফেলেছিল। সেই সাহসী দৃশ্যই রাতারাতি নায়িকার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়।

রেখা:  খোলামেলা পোশাক নয়, আশির দশকে শাড়িতেই ঝড় তুলেছিলেন রেখা। হাতকাটা ব্লাউজ, রঙিন ফিনফিনে শিফন শাড়ি, খোলা চুল আর ছোট্ট কালো টিপ— এই ছিল তাঁর সিগনেচার লুক।

‘সিলসিলা’ ছবিতে শাড়ির আঁচল সামলে, চোখের ইশারায় পর্দায় আগুন ধরিয়েছিলেন তিনি। এখন আবার ফিরেছে শিফন শাড়ির ফ্যাশন। তবে একরঙা শিফন শাড়িতে কী ভাবে আবেদনময়ী হয়ে ওঠা যায়, তা শিখিয়েছিল রেখার স্টাইল স্টেটমেন্ট।

১৯৮৪ সালের ‘উৎসব’ ছবিতে বড়পর্দায় নজর কাড়ে রেখার সাহসী সাজ! এই ছবিতে নগরনটী বসন্তসেনার চরিত্রে রেখার লুক ছিল একবারে ছকভাঙা।

শরীর জুড়ে মন্দিরের ধাঁচে তৈরি গয়নার লেয়ারিং, মাথাপট্টি, ব্রালেট ব্লাউজ় আর লাল কাঞ্জিভরম শাড়িতে তাঁর সেই সাহসী সাজ আশির দশকের বোল্ড ফ্যাশনকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছিল।

শ্রীদেবী: ১৯৮৭ সালের ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ ছবিতে শ্রীদেবীর ‘হাওয়া হাওয়াই’ লুক আশির দশকের বলিউডের সবচেয়ে আইকনিক লুকগুলির মধ্যে একটি। ঝলমলে সোনালি হল্টার-নেক গাউন, মাথায় সোনালি মুকুট, খোলা কোঁকড়ানো চুল আর ঝলমলে লুকে মোহময়ী সাজে ধরা দিয়েছিলেন পর্দায়।

‘হাওয়া হাওয়াই’ শুধু একটি গান নয়, এটি ছিল শ্রীদেবীর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট, যেখানে ফ্যাশন আর পারফরম্যান্স একসঙ্গে মিলে ইতিহাস তৈরি করেছিল। এই গানে নায়িকার লাস্যময়ী সাজ দেখে চোখ ফেরাতে পারেননি দর্শক।

‘হাওয়া হাওয়াই’-এর সেই জমকালো ম্যাক্সিমালিস্ট লুকের একেবারে বিপরীতে ছিল ‘কাটে নহীঁ কটতে’ গানে শ্রীদেবীর নীল মোনোটোন শাড়ির লুক। কোনও খোলামেলা পোশাক নয়, শিফন শাড়ি পরেও যে আবেদনময়ী হয়ে ওঠা যায়, ছবির দৃশ্যে সেই কায়দা শেখালেন তিনি।

বৃষ্টিভেজা সেই গানের দৃশ্যে নীল শিফন শাড়ি, ভেজা চুল, নীল টিপ, ন্যূনতম গয়না আর শ্রীদেবীর চোখের গভীর চাহনিতেই তৈরি হয়েছিল এক মায়াবী আবহ। গানের দৃশ্যে অনিল কপূরের সঙ্গে তাঁর রোম্যান্স আলাদা ভাবে নজর কেড়েছিল দর্শকের।

কিমী কাটকর: ১৯৮৫ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘অ্যাডভেঞ্চার্স অফ টারজান’। ছবির পোস্টার রিলিজের পর থেকেই কিমিকে দেখার জন্যই প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমান দর্শক। ছবির এক দৃশ্যে দৃশ্যে লাল বিকিনি টপ আর কোমরে বাঁধা সারোং স্কার্টে কিমি কাটকার যেন পর্দায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

জঙ্গলের ঝর্ণার পাশে সহ-অভিনেতা হেমন্ত বিরজের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ, মাখোমাখো রসায়ন দর্শকদের চোখ সরাতে দেয়নি। এই লুক শুধু সাহসী ছিল না, ছিল অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী। আশির দশকে কিমি যেভাবে নিজের শরীরী ভাষাকে উদ্‌যাপন করেছিলেন, তেমনটা খুব কম নায়িকাই পেরেছেন।

‘শান’ ছবিতে পরবীন বাবী যেন ডিস্কো যুগের গ্ল্যামার কুইন হয়ে ধরা দিয়েছিলেন। রুপোলি রঙের ঝলমলে সিকুইন গাউন, ডিপ নেকলাইন আর থাই-হাই স্লিট বডিকন ড্রেসে তাঁর সেই বোল্ড লুক দেখে চমকে গিয়েছিল দর্শক।

‘প্যার করনে ওয়ালে’ গানের তালে মেটালিক ড্রেস, চকচকে মেকআপ আর খোলা চুলে পরবীন ধরা দিয়েছিলেন এক মোহময়ী অবতারে। কোমরে বেল্ট, হাতে চুড়ি আর আত্মবিশ্বাসী হাসিতে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, বলিউডের নায়িকারাও হলিউড ডিভাদের টেক্কা দিতে পারেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]