বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে আপাতত স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের

আপলোড সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ০৫:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ০৫:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন
বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আপাতত কিছুটা সময় পেলেও বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেটাতে সেই সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণ এক শীর্ষ বৈঠক শেষ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, চলতি বছরেই দুই নেতা আরও দুবার বৈঠক করবেন।

তবে দুই নেতা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করলেও দুই দেশের মধ্যে এখনো বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান, প্রতিরক্ষা, বিরল খনিজ ও শিল্পনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ড্যানিয়েল রাসেল বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো তীব্র মতবিরোধ চলছে।

দ্য এশিয়া গ্রুপের পরামর্শক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেন, দুই দেশের নেতাই অন্তত বছরের শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

তবে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হলে আরও কিছু বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে হবে।

ক্রিটেনব্রিঙ্কের মতে, আগের বৈঠকগুলোতে চীন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবে যথাযথভাবে পালন করেনি বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা। এ কারণে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে চীনের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর হতাশাও রয়েছে।

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও সির বৈঠকের পর দুই দেশ একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।

তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করেছিল। একপর্যায়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্কের হার ১০০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যায়।

চুক্তির আওতায় চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়। একই সঙ্গে এক বছরের জন্য বিরল খনিজ উপাদান রপ্তানিতে বিধিনিষেধ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বেইজিং।

চুক্তিটির মেয়াদ মূলত নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে দুই দেশ চলতি সপ্তাহে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার শুক্রবার সিএনবিসিকে বলেন, ওয়াশিংটন এই ধরনের মেয়াদ বাড়ানোর সময়কে মূলত ‘কমপ্লায়েন্স পিরিয়ড’ বা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় হিসেবে দেখছে।

ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে চীন চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, মোটামুটি ততটুকুই করছে এর বেশি নয়।

তার ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের পরিস্থিতি টেকসই নয়।

পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের মেরি লাভলি বলেন, স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের সিদ্ধান্ত।

তার মতে, চীন আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য চুক্তি নবায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বড় একটি কারণ হলো বিরল খনিজ বা মাটির উপাদান দিয়ে তৈরি চুম্বকের সরবরাহ। তাই ওয়াশিংটন পরিস্থিতিকে খুব বেশি সময়ের জন্য চীনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে না।

লাভলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি এখন চীনের ওপর আগের মতো কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : [email protected],                    [email protected]