অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী নারীকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা, স্বামীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপলোড সময় : ২৮-০৯-২০২৬ ০৬:৪০:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৯-২০২৬ ০৬:৪০:১১ অপরাহ্ন
ঢাকার নবাবগঞ্জে সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দিয়ে সেখানে সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

মামলার তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছেন নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান খান।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন—আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।

চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা পারভীন। পরে ২৯ জুন বাংলাদেশে ফেরেন তার স্বামী আওলাদ হোসাইন। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বিপুল সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে আসে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেন অভিযুক্তরা।

চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়, এরপর আমজাদ হোসাইন রেহানার পা এবং কবীর হোসাইন তার দুই হাত চেপে ধরেন। একপর্যায়ে আওলাদ হোসাইন তার পেটের ওপর বসে মুখে বালিশ চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

হত্যার পর ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত করে রেহানার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করতে ওই স্থানে সবজির চারা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রেহানা নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা আইরিন আক্তার অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রেহানার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর মামলাটি হত্যা ও মরদেহ গুমের ধারায় রূপান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার পাপিয়া আক্তার, কবীর হোসাইন ও আমজাদ হোসাইন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া রেহানার নাবালিকা মেয়েও তার বাবা আওলাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান। সেখানে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে চার্জশিটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মামলায় নিজের নাম বাদ দেওয়া এবং তদন্ত প্রভাবিত করার জন্য ৯০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার পাঠানোর অভিযোগে সম্প্রতি ব্রিসবেন থেকে আওলাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহার করে রেহানার অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

বর্তমানে আওলাদ অস্ট্রেলিয়া পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিকে মামলার অপর আসামি আমজাদ হোসাইন ও কবীর হোসাইন কারাগারে রয়েছেন। আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com