কন্যা শিশুদের সুরক্ষা ও শিক্ষা নিশ্চিত ছাড়া উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়: জেলা প্রশাসক

আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৪:৪৬:১৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৪:৪৬:১৯ অপরাহ্ন
কন্যাশিশুদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া একটি রাষ্ট্র কখনোই নিজেকে উন্নত দাবি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।

জেলা প্রশাসক বলেন, একটি উন্নত দেশের প্রধান মাপকাঠি হলো সে দেশের নারী ও কন্যাশিশুরা কতটা নিরাপদে ও মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারছে এবং রাষ্ট্র তাদের কতটুকু সুরক্ষা দিতে পারছে। কন্যাশিশুরা সমাজের বোঝা নয়, বরং তারা দেশের অমূল্য সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ধারক। বিশ্ববিজয়ী নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ঐতিহাসিক উক্তি স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন- “আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব”।

নারী শিক্ষার অভূতপূর্ব অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে পড়াশোনায় মেয়েরা ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে মেয়েরা এগিয়ে থাকার পাশাপাশি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ আসন দখল করছে। এছাড়া প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে; বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে প্রায় ২৫টি জেলাতেই নারী জেলা প্রশাসক সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তিনি জানান।

কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, নারী শিক্ষার প্রসার ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন সমাজসংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত এবং একই সাথে দেশে নারী শিক্ষার সার্বিক বিপ্লব ঘটাতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা সভায় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সমাজে এখনো বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি ও সামাজিক বৈষম্যের মতো যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ভুয়া কাজি বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গোপনে বাল্যবিবাহ দেওয়ার অপচেষ্টা রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থাভাব বা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো কন্যাশিশুর পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়; প্রয়োজনে বইপত্র ও পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহনসহ রাষ্ট্র ও জেলা প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে। 

এ সময় তিনি রাজশাহীকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করা এবং সকল কন্যাশিশুর পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বপ্ন পূরণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন , রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা মামুন, রাজশাহী  ইমাম সমিতির সভাপতি ড. এইচ এম শহিদুল ইসলাম মোল্লা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহান। অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। উদ্বোধন শেষে একই স্থান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি  শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে শেষ হয়।

অনুষ্ঠান শেষে স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির ১৩০টিপ্রতিষ্ঠানকে ২৩ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com