ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ার অভিযোগে মুয়াজ্জিন গ্রেফতার!

আপলোড সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৫:৪০:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-১০-২০২৬ ০৫:৪০:৪০ অপরাহ্ন
ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করে লাউড স্পিকারে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামের এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জেলার নাজিবাবাদের মকবারা এলাকার নাজিব-উদ-দৌলা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। মসজিদটি একটি সরকারি কলেজের কাছাকাছি অবস্থিত। পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই আজানের শব্দ শুনে স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।

পরে পুলিশ মসজিদে অভিযান চালিয়ে একটি লাউড স্পিকার জব্দ করে। পুলিশের দাবি, স্পিকারটির শব্দ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল। এ ঘটনায় উপপরিদর্শক সৌরভ সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মুয়াজ্জিন ফাইজানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে মহকুমা শাসকের (এসডিএম) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।

পুলিশের অভিযোগে বলা হয়েছে, লাউড স্পিকারটি মসজিদের ভেতরে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে সহজে দেখা না যায়। অতিরিক্ত শব্দের কারণে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও অসুস্থ মানুষের সমস্যা হতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আজানের সময় শব্দের মাত্রা ঠিক কতো ডেসিবেল ছিলো, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। লাউড স্পিকার জব্দ ও মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতারের আগে ডেসিবেল মিটারের সাহায্যে শব্দ পরিমাপ করা হয়েছিলো কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।

এ ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নাজিবাবাদের কাজি আফান-উল-হক। তার মতে, মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর পরিবর্তে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া যে।

পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্থানগুলোতে নির্ধারিত শব্দসীমা অতিক্রম করে লাউড স্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

এদিকে, এলাকায় শব্দদূষণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিট কনস্টেবলদের কাছ থেকে হলফনামা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার। নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিট কনস্টেবলের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

এর আগের মাসেও বিজনোরে ধর্মীয় স্থানগুলোতে অনুমোদিত শব্দসীমার বেশি মাত্রায় লাউড স্পিকার ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। ওই অভিযানে মসজিদ, মন্দির ও গুরুদুয়ারা থেকে লাউড স্পিকার সরিয়ে নেওয়া হয়।

উত্তর প্রদেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ধর্মীয় স্থানগুলোতে লাউড স্পিকার ব্যবহারের ওপর প্রশাসনিক নজরদারি দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালের মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়, আজান ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হলেও লাউড স্পিকারের মাধ্যমে আজান প্রচার সেই অধিকারের অপরিহার্য অংশ নয়। আদালত আরও উল্লেখ করেন, লিখিত অনুমতি ছাড়া ধর্মীয় স্থান বা জনসমক্ষে শব্দ সম্প্রচারের যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না। সূত্র: মুসলিম মিরর, হিন্দুস্তান টাইমস্

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com