দেশি বীজ ও প্রকৃতিবান্ধব কৃষিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ আগামীর আহ্বান

আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৮:০৫:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৮:০৫:১৪ অপরাহ্ন
বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘দেশি বীজ, প্রকৃতিবান্ধব কৃষি - পুষ্টিসমৃদ্ধ আগামীর’ প্রত্যয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলার তালুকধর্মপুরে তালুকধর্মপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে আয়োজন করা হয়েছে ‘নিরাপদ খাদ্য ও এগ্রোইকোলজি মেলা’। আজ ১৬ অক্টোবর বিকেল ৪টায় মিনিটে তালুকধর্মপুর নারী উন্নয়ন সংগঠন, উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

মেলায় নিরাপদ খাদ্য, দেশি বীজ ও কৃষিবৈচিত্র্য এবং জৈব বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণ, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, কৃষকের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আয়োজকদের মতে, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কৃষকের উদ্ভাবনী উদ্যোগ, গ্রামীণ নারীর জ্ঞান, স্থানীয় বীজের সংরক্ষণ এবং প্রকৃতিনির্ভর কৃষিচর্চাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আজকের এই উদ্যোগ কৃষক, যুবসমাজ ও ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’ এর আলোকে আয়োজকেরা নিরাপদ খাদ্য, কৃষিবৈচিত্র্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষি বা এগ্রোইকোলজি চর্চাকে ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক ভিত্তিক স্থানীয় বীজ সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে রাষ্ট্রকে নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

তালুকধর্মপুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক শিল্পী খাতুন বলেন, “আমরা দেশি বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিবৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখছি। দেশি বীজ আমাদের সম্পদ ও অধিকার; এর সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের স্বনির্ভরতা নিশ্চিতে জরুরী। নারী কৃষকদের আইনত স্বীকৃতি ও এগ্রোইকোলজি ভিত্তিক কৃষি নীতি অত্যন্ত জরুরী।”

এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষাণী মোসা. রাকিবা খাতুন বলেন, “আমরা জৈব বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় শাকসবজি চাষের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের চেষ্টা করি। এ ধরনের কৃষিচর্চা পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমানো, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।”

বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, “এগ্রোইকোলজি চর্চা প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন, স্থানীয় জ্ঞানের বিকাশ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সমন্বিত ভিত্তি। টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষকের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সম্পদভিত্তিক কৃষিচর্চার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রয়োজন।”

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষিবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং ন্যায্য খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এগ্রোইকোলজি চর্চার প্রসারে তরুণদের নেতৃত্ব কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দায়িত্বশীল সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন, তালুকধর্মপুরের এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষাণী শায়লা বেগম, বিলনেপালপাড়া এগ্রোইকোলজি সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক মোসা. সুলতানা খাতুন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইসলামসহ প্রমূখ।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com