ধর্ষণের শিকার তরুণীর সন্তান প্রসব, নবজাতককে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ

আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৭:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৭:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ধর্ষণের শিকার তরুণীর সন্তান প্রসবের পর নবজাতকে হাসপাতালে এসে অভিযুক্ত যুবকের লোকজন নিয়ে যেয়ে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ওই তরুণী একটি ছেলেসন্তানের প্রসব করেন। জন্মের পর নবজাতককে নিয়ে যান ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকের লোকজন।

জানা গেছে, ওই তরুণীর বাবা মারা গেছেন ১২ বছর আগে। মা সংসার সামলাচ্ছেন। নানির চিকিৎসার জন্য মা যখন ঢাকায় ছিলেন, তখন ২১ বছর বয়সী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মামলা না করতে এবং স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

অভিযুক্ত যুবকের বাবা প্রবাসে থাকেন। ওই যুবকের চাচা বিষয়টি আপস–মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ, তার বৃদ্ধ অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ সময় ঢাকার হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল তাকে। ওই সময় বাড়িতে থাকা মেয়েকে ওই যুবক একাধিকবার ধর্ষণ করে। ভয়ে মেয়েটি প্রথম দিকে কাউকে কিছু জানায়নি।

পরে মেয়ের শারীরিক অবস্থায় পরিবর্তন ও নানা জটিলতা দেখা দিলে বিষয়টি বুঝতে পারেন মা। মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর অভিযুক্তের পরিবারকে ঘটনাটি জানান তিনি। তবে পরিবারের অভিযোগ, প্রথম দিকে অভিযুক্তের স্বজনেরা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উল্টো ভুক্তভোগীকে নিয়ে নানা অপবাদ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্ত যুবক ঘটনা স্বীকার করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিলে অভিযুক্তের পরিবার তা নাকচ করে দেয়। পরে আইনি পদক্ষেপের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাপ দেওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, অভিযুক্তের বাবা প্রবাসে থাকায় তার চাচা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগে যুক্ত হন। একই গ্রামের প্রভাবশালী এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগীর মাকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরিবারটির ভাষ্য, ভুক্তভোগীর মাকে একাধিকবার ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়। ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। তারা জানান, স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত শুক্রবার রাতে তরুণীর প্রসবব্যথা উঠলে তাকে চৌদ্দগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পরপরই অভিযুক্তের পক্ষের লোকজন নবজাতককে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে তারা শুনেছে। শিশুটিকে কার কাছে দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে সে কোথায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও তারা কিছুই জানে না।

ভুক্তভোগীর বড় বোন বলেন, ‘শুক্রবার রাতে আমার বোন একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু আমাদের পারিবারিক অবস্থা ও সামাজিক স্বীকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নবজাতককে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বোনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার হিসেবে তিন লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

সালিসে যুক্ত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামের ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি বলেন, তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তির চাচার দোকানে বসে ছিলেন। অন্যরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে সমঝোতা করেছেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে সমঝোতায় কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। নবজাতক বিক্রির বিষয়েও কিছু জানেন না বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তির চাচা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানি না। কারা কীভাবে কী করেছে, তা আপনারা খোঁজ নেন।’

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাটির বিষয়ে জানতে চাইলে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফ হোছাইন বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com