বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে জোর যার মুল্লুক তার, নীতি দিন দিন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালেই এর অসংখ্য উদাহরণ দেখা যায়। এমন বাস্তবতায় আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত মানবতা ও মানবাধিকার।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আইন বিভাগের আয়োজনে সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন, শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় এমন সম্পদ হলো মানুষের জীবন। এ মতের ওপর তিনি অটল উল্লেখ করে বলেন, এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এ জন্য কোনো তথ্যসূত্র বা উদ্ধৃতির প্রয়োজন নেই। চারপাশে তাকালেই এর বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায়।
মানবাধিকারের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাঘের অধিকার, কচ্ছপের অধিকার, শিশুদের অধিকার, শ্রমের অধিকার কিংবা শ্রমিকদের অধিকার, এভাবে আমরা অধিকারের নানা শ্রেণিবিভাগ করে থাকি। কিন্তু মানবাধিকার তো মানবাধিকারই। অধিকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে অধিকারের আগে থাকা মানব শব্দটিই যেন ভুলে গেছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা কি এমন একটি দিনের কথা বলতে পারি, যেদিন কোনো একটি দেশ, এমনকি কোনো একটি শহরেও একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি? এমন কোনো দিনের কথা কি আপনাদের মনে পড়ে? আমার তো পড়ে না। তবে আমার মতের সংশোধন হলে আমি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
সম্মেলনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত গবেষক ও শিক্ষাবিদদের স্বাগত জানিয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সায়েদা আনজু বলেন, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, নেপাল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ সুদান, নামিবিয়া ও গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণ সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। জমা পড়া গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ থেকে মৌলিকত্ব ও একাডেমিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে উপযুক্ত গবেষণাপত্র নির্বাচন করা হয়েছে। এ জন্য অ্যাবস্ট্রাক্ট সিলেকশন কমিটি, সেশন চেয়ার ও প্যানেল আলোচকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা রক্ষা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যম নয়; বরং অন্যায়, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, বেসরকারি বাহিনী, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো বিশ্বজুড়ে নতুন আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী আইনি চিন্তাভাবনা, আন্তবিষয়ক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষাবিদ, আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আইন বিভাগের আয়োজনে সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন, শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় এমন সম্পদ হলো মানুষের জীবন। এ মতের ওপর তিনি অটল উল্লেখ করে বলেন, এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এ জন্য কোনো তথ্যসূত্র বা উদ্ধৃতির প্রয়োজন নেই। চারপাশে তাকালেই এর বাস্তবতা উপলব্ধি করা যায়।
মানবাধিকারের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাঘের অধিকার, কচ্ছপের অধিকার, শিশুদের অধিকার, শ্রমের অধিকার কিংবা শ্রমিকদের অধিকার, এভাবে আমরা অধিকারের নানা শ্রেণিবিভাগ করে থাকি। কিন্তু মানবাধিকার তো মানবাধিকারই। অধিকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে অধিকারের আগে থাকা মানব শব্দটিই যেন ভুলে গেছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা কি এমন একটি দিনের কথা বলতে পারি, যেদিন কোনো একটি দেশ, এমনকি কোনো একটি শহরেও একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি? এমন কোনো দিনের কথা কি আপনাদের মনে পড়ে? আমার তো পড়ে না। তবে আমার মতের সংশোধন হলে আমি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
সম্মেলনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত গবেষক ও শিক্ষাবিদদের স্বাগত জানিয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সায়েদা আনজু বলেন, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, নেপাল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ সুদান, নামিবিয়া ও গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণ সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। জমা পড়া গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ থেকে মৌলিকত্ব ও একাডেমিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে উপযুক্ত গবেষণাপত্র নির্বাচন করা হয়েছে। এ জন্য অ্যাবস্ট্রাক্ট সিলেকশন কমিটি, সেশন চেয়ার ও প্যানেল আলোচকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা রক্ষা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যম নয়; বরং অন্যায়, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, বেসরকারি বাহিনী, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো বিশ্বজুড়ে নতুন আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী আইনি চিন্তাভাবনা, আন্তবিষয়ক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষাবিদ, আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।