পোল্যান্ডে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি বোগদান স্বিয়েচকোভস্কি ও উপপ্রধান বিচারপতি বার্তলোমিয়েজ সোচানস্কিকে এক মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী ওয়ারশ। এ ঘটনায় আদালত চত্বরে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সেনেগাল সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দুই বিচারপতিকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদালতের প্রবীণ বিচারপতি আনা কোরভিন-পিওত্রোভস্কি এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের দায়িত্বভার নিজের হাতে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে এ সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই আদালত চত্বরে জড়ো হন কয়েকশ মানুষ। তাঁদের অধিকাংশই বিরোধী রক্ষণশীল দল ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (পিআইএস)-এর সমর্থক। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্কের সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচারব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়।
আদালতের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকেও ঘটনাটিকে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আদালতের প্রবেশপথ ঘিরে ফেলে দাঙ্গা পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে আদালতের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আদালত চত্বরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সেনেগাল সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের পোল্যান্ডে থাকা প্রয়োজন। এ কারণে মাঝপথ থেকেই সেনেগালের উদ্দেশে যাত্রা বাতিল করে দেশে ফিরছেন তিনি।
দেশে ফিরে বরখাস্ত হওয়া সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি স্বিয়েচকোভস্কি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জিবিগনিয়েভ কাপিনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন নাভরোকি। পরে কাপিনস্কিকে সঙ্গে নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের ভবনেও প্রবেশ করেন তিনি।
পোল্যান্ডের বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী শিবিরের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ক্ষমতায় ছিল রক্ষণশীল দল পিআইএস। ওই সময়ে সাংবিধানিক আদালতসহ বিভিন্ন বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানে বিচারপতি নিয়োগ ও সংস্কার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ ছিল, এসব সংস্কারের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্কের সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে পিআইএস-ঘনিষ্ঠ বিচারপতিদের ভূমিকা, তাঁদের অপসারণ এবং নতুন বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ দেখা দেয়।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কারোল নাভরোকিও সরকারের বিভিন্ন বিচার বিভাগীয় উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধান বিচারপতি স্বিয়েচকোভস্কির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মনোনীত বিচারপতিদের দায়িত্ব গ্রহণে তিনি বাধা দিচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক আদালতের প্রধান ও উপপ্রধানকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত দেশটির চলমান রাজনৈতিক ও বিচার বিভাগীয় বিরোধকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংকটের পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে পোল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দুই বিচারপতিকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদালতের প্রবীণ বিচারপতি আনা কোরভিন-পিওত্রোভস্কি এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের দায়িত্বভার নিজের হাতে নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে এ সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই আদালত চত্বরে জড়ো হন কয়েকশ মানুষ। তাঁদের অধিকাংশই বিরোধী রক্ষণশীল দল ল অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (পিআইএস)-এর সমর্থক। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্কের সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচারব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়।
আদালতের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকেও ঘটনাটিকে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আদালতের প্রবেশপথ ঘিরে ফেলে দাঙ্গা পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের একাংশ নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে আদালতের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আদালত চত্বরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সেনেগাল সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের পোল্যান্ডে থাকা প্রয়োজন। এ কারণে মাঝপথ থেকেই সেনেগালের উদ্দেশে যাত্রা বাতিল করে দেশে ফিরছেন তিনি।
দেশে ফিরে বরখাস্ত হওয়া সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি স্বিয়েচকোভস্কি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জিবিগনিয়েভ কাপিনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন নাভরোকি। পরে কাপিনস্কিকে সঙ্গে নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের ভবনেও প্রবেশ করেন তিনি।
পোল্যান্ডের বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী শিবিরের বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ক্ষমতায় ছিল রক্ষণশীল দল পিআইএস। ওই সময়ে সাংবিধানিক আদালতসহ বিভিন্ন বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানে বিচারপতি নিয়োগ ও সংস্কার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ ছিল, এসব সংস্কারের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্কের সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে পিআইএস-ঘনিষ্ঠ বিচারপতিদের ভূমিকা, তাঁদের অপসারণ এবং নতুন বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ দেখা দেয়।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কারোল নাভরোকিও সরকারের বিভিন্ন বিচার বিভাগীয় উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধান বিচারপতি স্বিয়েচকোভস্কির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মনোনীত বিচারপতিদের দায়িত্ব গ্রহণে তিনি বাধা দিচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক আদালতের প্রধান ও উপপ্রধানকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত দেশটির চলমান রাজনৈতিক ও বিচার বিভাগীয় বিরোধকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংকটের পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে পোল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।