তানোরে ডিলার-কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশে সার পাচার, বিক্ষুব্ধ কৃষক

আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০৫:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০৫:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন
রাজশাহীর তানোরে সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে রাতের আঁধারে কালোবাজারে শতাধিক বস্তা সরকারি সার পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও দুই সার ডিলারের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর তানোরের পাঁচন্দর যোগিশো এলাকার সারের গুদাম থেকে পবা উপজেলার দুয়ারী বাজারে এই সার পাচার করা হয়। এ সময় স্থানীয় কৃষকেরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তা ব্যর্থ হয়, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তানোর উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার প্রণব সাহা (প্রাইম ট্রেডার্স) ও বিএডিসির সার ডিলার সৈয়ব আলীর কাছ থেকে শতাধিক বস্তা ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার ক্রয় করেন পবা উপজেলার দুয়ারী বাজারের মেসার্স শ্যামা ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী সাইফুর রহমান শ্যামা। শ্যামা পবা উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গ্রেফতার এড়াতে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ উঠেছে, তানোর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের বিশেষ সহায়তায় এই কালোবাজারি ব্যবসা দেদারসে চলছে। তবে, পাচারের সার দুয়ারীতে নেয়া হয়নি তানোরেই রয়েছে বলে শ্যামা দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, “আমরা দিনরাত লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো সরকারি সার পাচ্ছি না। অথচ কৃষি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা পেছনের দরজা দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও কালোবাজারিদের কাছে রাতের আঁধারে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন।কৃষকেরা আরো বলেন,খোদ কৃষি কর্মকর্তা নিজেই বিভিন্ন ডিলারের কাছে তদ্বির করেছেন গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতাসহ বিশেষ ব্যক্তিদের বেশী করে সার দিতে।

উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার রাতের অন্ধকারে শ্যামার নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন।স্থানীয়রা ওই ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

তবে, কালোবাজারির অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুর রহমান শ্যামা বলেন, “দেশে এখন আর আওয়ামী লীগ নেই, আমরাও দল করি না। দুয়ারী বাজারে আমার ব্যবসা এখন ভাই পরিচালনা করে।” তানোরে প্রায় দুইশত বিঘা জমিতে আলু চাষের বর্গা নিয়েছেন দাবি করে তিনি জানান, জমির মালিকদের নামেই সরকারি নিয়ম মেনে সার তুলে রবিউলের গোডাউনে রাখা হয়েছে।

সার বিক্রির বিষয়ে বিসিআইসি ডিলার প্রণব সাহা নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের দেওয়া তালিকা মোতাবেক কৃষকদের সার দেওয়া হচ্ছে। এখানে ডিলারের করণীয় কিছু নেই।”অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম সারের সুপারিশের কথা স্বীকার করে বলেন, “ব্যবসায়ী সাইফুর রহমান শ্যামা তানোরে দুই শতাধিক বিঘা জমিতে আলু চাষ করবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশ ও বিধি মোতাবেকই তাকে সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে সারের বিতরণে কোনো প্রকার অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

রাজশাহীর সময় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আবেদনকৃত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা ।

অফিস :

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204 Thana : Motihar,Rajshahi

Email : rajshahirsomoy@gmail.com,                    md.masudrana2008@gmail.com