যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করেছেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা। ধর্ষণের ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের জেরে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এ প্রস্তাব পাস হয়। ভোট দেওয়া শিক্ষক প্রতিনিধিদের ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা থেকে তাঁকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় গত সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই শিক্ষার্থী।
অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটে ৩৭ শতাংশ শিক্ষক প্রতিনিধি বিপক্ষে অবস্থান নেন। আর ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। প্রস্তাবে বলা হয়, ধর্ষণের ঘটনা মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সক্ষমতার ওপর শিক্ষক পরিষদের আস্থা নেই।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এ অনাস্থা প্রস্তাবের কোনো বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক পরিণতি নেই। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ প্রেসিডেন্ট মাইকেল কটলিকফ ও প্রশাসনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন অ্যান স্মলিং বলেন, শিক্ষকদের ক্ষোভকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের উদ্যোগকে তাঁরা সমর্থন করেন।
অনাস্থা প্রস্তাবের অন্যতম উদ্যোক্তা শিক্ষক রিসা লিবারউইটজের অভিযোগ, ধর্ষণের মতো ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসন সামগ্রিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে অভিযোগ জানানোর বিষয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র রেবেকা ভাল্লি জানিয়েছেন, ভোটের ফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এ বিষয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য তাঁর হাতে ৩০ দিন সময় রয়েছে।