সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে থাকা, জিভ আঠালো লাগা কিংবা গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। মাঝেমধ্যে এমন হলে সাধারণ বিষয় মনে হলেও নিয়মিত এ সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, পানিশূন্যতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ কিংবা দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে মুখে লালা উৎপাদন কমে গিয়ে এমন সমস্যা হতে পারে।
যেসব ওষুধে শুকিয়ে যেতে পারে মুখ
বিভিন্ন ধরনের ওষুধ শরীরে লালা উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। এর ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ধরনের ওষুধের মধ্যে রয়েছে বিষণ্নতার ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু ওষুধ, পারকিনসন রোগের ওষুধ এবং শক্তিশালী ব্যথানাশক। কোনো ওষুধ সেবনের পর নিয়মিত মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়তে পারে ঝুঁকি
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে। বয়স নিজে সরাসরি মুখ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ না হলেও বয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিস, পানিশূন্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া একসঙ্গে একাধিক ওষুধ সেবনের কারণেও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
যেসব রোগের লক্ষণ হতে পারে
কিছু রোগ সরাসরি লালাগ্রন্থির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এতে মুখে লালা উৎপাদন কমে যায়।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
এ ছাড়া পারকিনসন রোগ, সজোগ্রেনস সিনড্রোম, এইচআইভি সংক্রমণ এবং মাথা বা ঘাড়ে আঘাতের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। ক্যানসারের চিকিৎসায় মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন থেরাপি নিলেও লালাগ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে।
দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস দায়ী
শুধু রোগ কিংবা ওষুধ নয়, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণেও সকালে মুখ শুকিয়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এ ছাড়া ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, অতিরিক্ত চা-কফি পান, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণের কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘুমানোর ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হলেও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়া, নাক ডাকা কিংবা ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের এ সমস্যা বেশি হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাঝেমধ্যে সকালে মুখ শুকিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণ নাও থাকতে পারে। তবে নিয়মিত এমন হলে কিংবা দিনের বেলাতেও মুখ শুকিয়ে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসক রোগীর ব্যবহৃত ওষুধ, শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, লালা উৎপাদনের পরীক্ষা কিংবা লালাগ্রন্থির স্ক্যান করার পরামর্শ দিতে পারেন।
সমস্যা কমাতে যা করবেন
সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা কমাতে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। যেমন—
১. প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
২. ঘুমের সময় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন।
৩. চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবাতে পারেন।
৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
৫. রাতে অতিরিক্ত চা-কফি পান কমিয়ে দিন।
৬. ঘরের বাতাস শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ শুকিয়ে যাওয়াকে সব সময় সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে নিয়মিত এমন হলে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মুখের শুষ্কতা কমানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো সম্ভব।