ডিসেম্বরে ১৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার


অনলাইন ডেস্ক , আপডেট করা হয়েছে : 19-12-2022

ডিসেম্বরে ১৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে স্বস্তির খবর দিচ্ছে রেমিট্যান্স। চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ১৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১০ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। প্রতি ডলার ১০৭ টাকা ধরে। এ হিসাবে প্রতিদিন এসেছে গড়ে প্রায় ৬ কোটি ডলার।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে তা ১৭০ কোটি ডলার অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতিদিন গড়ে এসেছিল ৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের ফলে টানা দুই মাস পতনের পর নভেম্বরে ইতিবাচক ধারায় ফেরে রেমিট্যান্স। ডিসেম্বরে সেই ধারা আরও ইতিবাচক হওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে হুন্ডি বন্ধে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৭৬ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত এক ব্যাংকের মাধ্যমে ২ কোটি ২৫ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৪২ লাখ মার্কিন ডলার।

আলোচিত সময়ে সাতটি ব্যাংক কোনো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে পারেনি। বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, উরি ব্যাংক এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ৮৭৯ কোটি ৩১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। জুলাইয়ে এসেছিল ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার; যা ছিল আগের ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ। আগস্টে আসে ২ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ওই দুই মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

কিন্তু সেপ্টেম্বরে এসে হোঁচট খায়। ওই মাসে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন; যা ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল। পরের মাস অক্টোবরে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, যা ছিল আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বৈধ উপায়ে ওয়েজ আর্নার্স রেমিট্যান্সের বিপরীতে আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনা, রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি সম্মাননা প্রদান, রেমিট্যান্স বিতরণ প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ ও সহজীকরণ পাশাপাশি অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগ ও গৃহায়ন অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া, ফিনটেক পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরকে বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে ড্রয়িং ব্যবস্থা স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ এবং রেমিট্যান্স প্রেরণে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর চার্জ ফি মওকুফ করা হয়েছে।


Publisher & Editor :Md. Abu Hena Mostafa Zaman

Mobile No: 01971- 007766; 01711-954647

Head office: 152- Aktroy more ( kazla)-6204  Thana : Motihar,Rajshahi
Email : [email protected], [email protected]