২০ এপ্রিল ২০২৪, শনিবার, ০২:৩৪:৫২ পূর্বাহ্ন


রাণীনগরে গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে নাকি আত্নহত্যা!
কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ)
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০২-২০২৩
রাণীনগরে গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে নাকি আত্নহত্যা! রাণীনগরে গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে নাকি আত্নহত্যা!


নওগাঁর রাণীনগরে তসলিমা বিবি (৩০) নামে এক গৃহবধূকে  বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে নাকি সে আত্নহত্যা করেছে। এনিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছে। পুলিশ বুধবার সকালে গৃহবধূ তসলিমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে । ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নের কাটরাশাইন পোয়াতাপাড়া গ্রামে। তসলিমা কাটরাশাইন পোয়াতাপাড়া গ্রামের মাহমুদুর রহমান রিপনের স্ত্রী ও গহেলাপুর গ্রামের তোফাজ্জলের মেয়ে। 

 তসলিমার খালাতো ভাই নবাব আলী ও চাচা নিফাজসহ স্বজনরা জানান, বেশ কয়েক বছর আগে তসলিমার বিয়ে হয় রিপনের সাথে। বিয়ের পর তাদের ঘরে এক কণ্যা সন্তান জন্ম নেয়। হটাৎ করে গত বছর থেকে পারাবারিক কলহ শুরু হয়। এরপর থেকেই তাদের দু’জনের মাঝে মধ্যেই ঝগড়া হতো। একাধিকবার পারিবারিকভাবে মিমাংসা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে তসলিমা ও তাঁর স্বামী রিপনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরই জের ধরে নিজ বাড়িতে রিপন তাঁর স্ত্রী তসলিমাকে মারধর করে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খাইয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মাঠে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর তসলিমাকে অচেতন অবস্থা ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য প্রথমে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। নওগাঁ হাসপাতালেও তার অবস্থার আরো অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়ার পথে তসলিমার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি- তসলিমাকে হত্যা করে তাঁর স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন তসলিমার স্বজনরা।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে তসলিমার স্বামী মাহমুদুর রহমান রিপন বলেন, কাপড় পরিষ্কার করা নিয়ে স্ত্রীকে একটু বকাঝকা করেছি, কিন্তু মারপিট করিনি। হয়তো ওই কারনেই সে রাগ করে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

রাণীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম রেজা বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে গৃহবধূ তসলিমার লাশ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে বলা যাবে এটা হত্যা না অত্মহত্যা। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।