০৫ মার্চ ২০২৪, মঙ্গলবার, ০৭:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন


বড়াইগ্রামে বরই নিয়ে বিপাকে চাষিরা, ফেলে দিচ্ছেন
লক্ষিকুল প্রতিনিধি:
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০৩-২০২৩
বড়াইগ্রামে বরই নিয়ে বিপাকে চাষিরা, ফেলে দিচ্ছেন বড়াইগ্রামে বরই নিয়ে বিপাকে চাষিরা, ফেলে দিচ্ছেন


উত্তরবঙ্গের অন্যতম বরইয়ের আড়ত নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বিশেষ দুই জাতের বরইয়ের দাম নেই। তাই আড়তসংলগ্ন মহাসড়কের পাশে বস্তা বা ঝুড়ি থেকে চাষিরা সে বরই ঢেলে ফেলে দিচ্ছেন। আড়তে আনার পরিবহন ভাড়া পকেট থেকে খসে পড়ল অসহায় চাষিদের। এমনই অপ্রত্যাশিত চিত্র চোখে পড়েছে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর অবধি বনপাড়া বরই আড়তে। সন্ধ্যার দিকে বনপাড়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বরই ময়লার ভ্যানে উঠিয়ে ফেলে দিচ্ছেন পৌরসভার নির্ধারিত ময়লার ভাগাড়ে।

উপজেলার জোয়াড়ি ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বরই চাষি ফারুক হোসেন বলেন, ‘চার মণ বাওকুল বরই আনলাম। বরই দেখে কেউই দাম করেনি। আড়তদারেরা জানাল, এর চেয়ে ভালো বরই রাস্তার পাশে ২০-৩০ মণ ফেলে দেওয়া হয়েছে। এসব বরই চলবে না। পরে বাধ্য হয়ে বরইগুলো ঢেলে দিলাম সড়কের পাশে।’

উপজেলার মাঝগাঁও ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের বরই চাষি মুক্তার হোসেন বলেন, ‘পাঁচ মণ বাওকুল বরই আড়তে এনে দেখি আড়তদার ও অন্য মহাজনরা ১০০ টাকা মণ দাম হাঁকাচ্ছে। বাধ্য হয়ে দিলাম সেই দামে। কিন্তু সে বরই ওই আড়তদার বেছে বেছে অতি ভালোগুলো দুই মণ আলাদা করে বাকি তিন মণ আড়তসংলগ্ন মহাসড়কের পাশে ঢেলে ফেলে দিল।’

এ প্রসঙ্গে জনতা ফল ভাণ্ডারের আড়তদার আশরাফুল মিঠু জানান, এ সময় বরইয়ের স্বাদ একেবারেই কম। বাওকুল ও আপেল কুল নামে এ দুই জাতের বরইয়ের দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই দামে কিনে যেগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি ভালো সেগুলো মহাজনরা কিনছে। বাকিগুলো কিনছে না। ফলে বাধ্য হয়ে আড়তে আসা এ দুই জাতের কমপক্ষে ৫০-৬০ শতাংশ বরই চলে যাচ্ছে ময়লার ভাগাড়ে।

জঙ্গল বাবা ফল ভাণ্ডারের আড়তদার শাহাদৎ প্রামাণিক জানান, বরইয়ের মধ্যে বল সুন্দরী ও ভারত সুন্দরী জাতের বরই প্রতি মণ এক হজার থেকে এক হজার ২০০ টাকা, কাসমেরি জাতের বরই প্রতি মণ ৬০০ থেকে শুরু করে এক হজার ২০০ টাকায় ক্রয় করছে মহাজনরা। মূলত চলতি আবহাওয়াতে বরইয়ের স্বাদ ভালো হয় না এবং বাজার যেন নষ্ট না হয় তার জন্য স্বাদ কম বরই বাজারে পাঠাচ্ছে না মহাজনরা।

বনপাড়া পৌর মেয়র কে এম জাকির হোসেন জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বনপাড়া বরই আড়ত হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম। এখান থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি ট্রাক এবং পাশাপাশি ২০ থেকে ৩০টি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের ছাদে বরই যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

পৌর মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ব্যবসাবান্ধব অনুকূল যাতায়াত ব্যবস্থা থাকার কারণে আগামীতে এই বরই আড়ত হবে দেশের শীর্ষ বরই আড়ত। এ ছাড়া বনপাড়াতে কাঁচাকলার আড়ত এখন উত্তরবঙ্গের শীর্ষে রয়েছে বলেও তিনি জানান।