২৯ মে ২০২৪, বুধবার, ০৬:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন


পদক না পেলেও শুটারদের মাথায় তুলে রাখবো
ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৯-২০২৩
পদক না পেলেও শুটারদের মাথায় তুলে রাখবো ছবি: সংগৃহীত


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সম্ভাবনা যে কয়টি ডিসিপ্লিন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম শুটিং। আগামীকাল চীনের হ্যাংঝুতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শুটিং দল। শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সভাপতি লেঃ জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান শুটারদের বিদায় দিতে গতকাল বিকালে ফেডারেশন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সবার সঙ্গে এক টেবিলে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেন। পদক জয়ের ব্যাপারে খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে বোনাস ঘোষণা মুখে এনেও ফিরিয়ে নিলেন। হাতে বোনাসের অঙ্ক লেখা একটা কাগজ। সেটা সরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘প্রাইজমানি বলতে চাচ্ছি না। অর্থ ডিক্লিয়ার করে ছোট করতে চাই না। তুমি যদি পদক নিয়ে আস সেটা অর্থের সঙ্গে তুলনা হয় না। যদি অর্জন করতে পার আমি মাথার উপরে রাখব। না পারলেও তোমরা মাথায় থাকবা। যদি অর্জন করে না আস আমি কোনো প্রশ্ন করব না। অর্জন করলে দেশের সবাইকে জানাবে। সবাই শুনবে।’ কথাগুলো বলার সঙ্গে সঙ্গে হাততালিতে পিনপতন নিরবতা ভাঙল।

এশিয়ান গেমস অনেক বড় আসর। এশিয়ান গেমস শুটিংয়ে বাংলাদেশের পদক নেই। আফসোস আছে। কষ্ট আছে। শুটিংয়ের পদক নিয়ে কাড়াকাড়ি করে চীন, জাপান, কোরিয়া। সেখানে পাত্তা পায় না বাংলাদেশের মতো দেশ। আশা-ভরসা নিয়ে যায় আর খালি হাতে ফিরে আসে। লেঃ জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই খেলাটাকে একটা উচ্চস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এশিয়ান গেমস নিয়ে তার কষ্ট থাকলেও বাস্তবতা কঠিন সেটা বুঝতে পারেন। তাই হয়ত বাংলাদেশের শুটারদের বললেন, ‘প্রত্যাশা করি কিন্তু জোর করব না। তোমরা যেটা পারবে সেটা করবে।’

ফেডারেশন সভাপতির কথাগুলো শুনছিলেন শুটাররা। একটা গেমসে যাওয়ার আগে কত চাপ থাকে শুটারদের মাথায়। দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় একটা খেলা। সেই ৯০-য়ে কমনওয়েলথ শুটিংয়ে বাংলাদেশ আলো ছড়াতে শুরু করে। এর পরও পদক এসেছে। কিন্তু এশিয়ান গেমস যেন আজও অধরা রয়ে গেছে। এবার শুটারদের জন্য অস্ত্র, গুলি, পোশাক সবদিকেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। উন্নতির চেষ্টা করা হয়েছে। দেশে-বিদেশে খেলেছে। গত বুধবার নিজেদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতাও করানো হয়েছে। জাতি আশা করে, প্রধানমন্ত্রী আশা করেন। নানা কথায় ফেডারেশন সভাপতি শুটারদের কাছে জানতে চাইলেন তারা কীভাবে দেখছে। শুটাররাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে জানালেন তাদের পরিকল্পনার কথা। প্রতিশ্রুতি দিলেন সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবেন। ফেডারেশন সভাপতি আতাউল হাকিম সারওয়ার শুটারদের প্রশ্ন করলেন, ‘তোমরা কেমন আছ। মানসিক, শারীরিকভাবে কেমন আছ। পারিবারিকভাবে কেমন আছ। কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে জানাতে পার। মনের মধ্যে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে খেলায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। পরিবারে কোনো সমস্যা থাকলে সেটিও আমাকে জানাতে পার। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি আই উইল টেক কেয়ার। বাবা-মা যদি ভালো না থাকে সন্তান ভালো থাকে না, এতে সমস্যা হয়। তোমরা হাসো না কেন। তোমাদের মধ্যে হাসি থাকে না কেন। সবাই মন খুলে হাসবে।’

সব কথার মধ্যে কঠিন কথাগুলোও নরম সুরে জানিয়ে রাখলেন ফেডারেশন সভাপতি। বললেন, ‘নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলবে। ফেসবুক চলবে না। মোবাইল ফোন চলবে না। সময় মতো ঘুমাতে যেতে হবে। তোমরা মন খারাপ কর না। নির্ধারিত সময়ের পর মোবাইল ফোন জমা রাখতে হবে।’ তবে জানা গেছে, এশিয়ান গেমসে  স্বর্ণ জিতলে ২০ লাখ, রৌপ্য ১৫ লাখ এবং ব্রোঞ্জ ১০ লাখ টাকা পাবেন।