২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, সোমবার, ১১:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন


হরতাল-অবরোধে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি, নতুন পরিকল্পনা বিএনপির
অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-১১-২০২৩
হরতাল-অবরোধে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি, নতুন পরিকল্পনা বিএনপির হরতাল-অবরোধে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি, নতুন পরিকল্পনা বিএনপির


সরকারের পদত্যাগ দাবিতে এক মাস আগে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছিল বিএনপি। কিন্তু দলটি তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। উল্টো হামলা-মামলা এবং দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হওয়ায় বেশ চাপে পড়েছেন নেতাকর্মীরা।

এ অবস্থায় আগামী ৩০ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের পর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে বিরতি দিতে পারে বিএনপি।

তারপর দল গুছিয়ে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিনকে সামনে রেখে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলেন, হঠাৎ বড় কর্মসূচি থেকে সরে আসার বিষয়টি স্বাভাবিক করতে এরই মধ্যে দলের পেশাজীবী নেতারা মানববন্ধন করেছেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গুম, খুন ও কারাবন্দি নেতাদের স্বজনরা মানববন্ধন করবে।

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের দিন বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পরদিন হরতাল এবং এর পর থেকে ধারাবাহিক অবরোধের কর্মসূচি দিয়ে আসছে বিএনপি।

তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামী এবং সমমনা দলগুলোও একই কর্মসূচি দিচ্ছে আলাদাভাবে। এর মধ্যে সাত দফায় ১৭ দিন অবরোধ এবং দুই দফায় তিন দিন হরতাল করেছে দলগুলো। সপ্তাহের দুই ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ছাড়াও তিনটি মঙ্গলবার কর্মসূচিতে বিরতি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক বৈঠকে পরবর্তী আন্দোলন নিয়ে আলোচনার ফাঁকে গত এক মাসের কর্মসূচি নিয়েও পর্যালোচনা হয়।

বৈঠকে নেতারা মনে করেন, আন্দোলন শুরুর প্রথমে জনগণ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে। যার ফলে ঢাকা থেকে সারা দেশ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিন্তু জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষ এখন বের হতে শুরু করেছে। বৈঠকে নেতারা এ-ও বলেন, হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দুই সপ্তাহের বেশি পালন করা কঠিন।

বিএনপির তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০ জন নেতাসহ ১৭ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই সময় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪৩৫টির বেশি রাজনৈতিক মামলা করেছে পুলিশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী। ২৮ অক্টোবরের পূর্বাপর ২৯ মামলায় প্রায় ৫০০ নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী মনে করেন, ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশজুড়ে ভীতির রাজত্ব কায়েমের অশুভ উদ্দেশ্যে প্রতিদিন নৈরাজ্যে লিপ্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারী কর্মীরা। বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করা হচ্ছে। এ অবস্থায়ও নেতাকর্মীরা সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।’

আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ হচ্ছে কি না জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি। আন্দোলনের কৌশল সময় সময় পরিবর্তিত হয়। তার মানে এই নয় যে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

দলের এমন অবস্থার মধ্যে গতকাল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। মঙ্গলবার এক দিন বিরতি দিয়ে বুধবার অবরোধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল পালন করা হবে বলে জানান তিনি।

রিজভী বলেন, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অবরোধ এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতাল পালন করবেন দলের নেতাকর্মীরা।

আত্মগোপনও কৌশল

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের পরামর্শে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এখনো আত্মগোপনে আছেন। মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত সবাইকে গ্রেপ্তার এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর কারণ হিসেবে দলের একজন নেতা বলেন, জ্যেষ্ঠ নেতারা প্রকাশ্যে এলে তাঁদের বিভিন্নভাবে চাপে ফেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা ছোট ছোট রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচন করতে বাধ্য করা হতে পারে। সে জন্যই ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নেতাদের আত্মগোপনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা একরামুজ্জামানকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করার পর তাঁকে আদালত থেকে জামিন দিয়ে নির্বাচন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্য নেতারা প্রকাশ্যে এলে তাঁদেরও একইভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাপ প্রয়োগ করা হতো। সূত্র: কালের কন্ঠ।