২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, সোমবার, ০৯:৪৭:৫৯ পূর্বাহ্ন


পৃথক হচ্ছে মাতারবাড়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৭-১২-২০২৩
পৃথক হচ্ছে মাতারবাড়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ


পরিচালনায় থাকবে বেসরকারি খাতের অংশীদারি, সীমানার ৫০ মিটারের মধ্যে বেসরকারি খাতের সম্পত্তি, ভূমি বা তীর থাকবে নিয়ন্ত্রণাধীন

দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর মাতারবাড়ীর উন্নয়ন কার্যক্রম এতদিন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)-এর মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এখন সেটি আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য সরকার একটি আইন করতে যাচ্ছে- যে আইনে বন্দরটি পরিচালনায় বেসরকারি খাতের অংশীদারির সুযোগ রাখা হচ্ছে। সূত্র জানায়, গভীর সমুদ্রবন্দরটি পরিচালনার জন্য মাতারবাড়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ শিরোনামে একটি আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে ওই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেওয়া হয়েছে সুবিধাভোগীদের মতামত। আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়ার পাশাপাশি আইনটি অনুমোদনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রস্তাবিত আইনে বন্দরের সুশাসন অথবা নদী এবং নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে সীমানা বাড়ানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের সীমানার ৫০ মিটারের মধ্যে বেসরকারি খাতের সম্পত্তি, ভূমি বা তীরকে বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মতামত গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবিত আইনে বেসরকারি খাতের অংশীদারি রাখা হচ্ছে। মাতারবাড়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইলে পরিচালনা পর্ষদের সভায় বেসরকারি খাত বা বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিকে রাখতে পারবেন, যাতে তারা তাদের মতামত দিতে পারেন। দেশের অন্য তিনটি সমুদ্রবন্দর পরিচালনায় যে বোর্ড বা পর্ষদ রয়েছে, সেগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বা মতামত দেওয়ার সুযোগ নাই।

সে ক্ষেত্রে মাতারবাড়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনে বেসরকারি খাতকে অংশীদারি দেওয়ার বিষয়টি ওই বন্দরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি বন্দর কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হচ্ছে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, যেটি ১৩৬ বছরের পুরনো। প্রধান এ সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়। এ ছাড়া ১৯৫৪ সালে খুলনায় দেশের দ্বিতীয় মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং ২০১৬ সালের পটুয়াখালীতে দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্রবন্দরের গোড়াপত্তন হয়। এবার হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর পরিচালনায় মাতারবাড়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ নভেম্বর কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চ্যানেল উদ্বোধন ও প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তিনি বন্দরটি পরিচালনায় পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়ে জোর দেন। এরপরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আইনটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেয়।

 

দেশের প্রথম এ গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের জন্য ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মাতারবাড়ী টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে ১৬ মিটার বা ততধিক গভীরতা সম্পন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। প্রকল্পের আওতায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি মাল্টিপারপাস জেটি এবং ৪৬০ মিটার দীর্ঘ একটি কনটেইনার জেটি নির্মিত হবে। জেটি নির্মাণ কাজ শেষ করতে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। সে বছর ১১ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বন্দর।

জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা ২০১৫ সালে মাতারবাড়ীতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করে, যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লাবাহী জাহাজ ভেড়ানোর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১৬ মিটার ড্রাফট (গভীরতা) এবং ২৫০ মিটার চওড়া চ্যানেল নির্মাণ করা হয়। পরে এটিকেই গভীর সমুদ্রবন্দর হিসেবে তোলার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেয় জাইকা। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে দীর্ঘমেয়াদে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে জাইকা, সে অনুসারে কাজ হলে ২০৪১ সালে ওই কেন্দ্র থেকে ২১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। গড়ে তোলা হবে ৩ হাজার ৫০০ এমএমসিএফডি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এলএনজি টার্মিনাল। বন্দরভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন সম্প্রসারণ করে সেটিতে ভারী ও পেট্রকেমিক্যাল শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে। আর ২০৪১ সালে তৃতীয় পর্বের কাজ শেষে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রায় ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জন করবে, যা হবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।