১৯ এপ্রিল ২০২৪, শুক্রবার, ০৬:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন


চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত; ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা গ্রেফতার
অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৩-২০২৪
চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত; ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা গ্রেফতার ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা বিপ্লব বড়াল গ্রেফতার


চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিপ্লব বড়াল (৩২) নামের এক ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা থানা পুলিশ।

শনিবার (২ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এএন্ডও) সরদার রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (১ মার্চ) ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বিল ছোনাওঠা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার ধীরেন বড়ালের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম বলেন, বিপ্লব বড়াল একজন প্রতারক এবং সে নিজেকে এনএসআই, ডিজিএফআই, পুলিশ কর্মকর্তা ও বিসিএস কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তাদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ এবং কুরুচিপূর্ণ ছবি ও ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে আসছিল। এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনসহ তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও নগদ অর্থ আত্মসাৎ করাই তার মূল পেশা।

তিনি জানান, বিপ্লব সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামের তরুণী দুর্বা দাশের সঙ্গে ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নগদ ১ লাখ টাকাসহ ৬ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। 

গত ৬ মাস আগে ফেসবুকে বিপ্লব বড়ালের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় হয়। একপর্যায়ে আসামি বিপ্লব বড়ালের সঙ্গে বাদীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েটির সঙ্গে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা করে। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুর্বাদাশ ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকে জীবননাশের হুমকি দেয়। এছাড়া টাকা এবং স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে দুর্বা দাশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে, বিপ্লব বড়াল জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) কোনো কর্মকর্তা নয়, সে একজন প্রতারক। সে এনএসআইয়ের ভুয়া কার্ড প্রদর্শন করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সুকৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এ ঘটনায় ওই প্রতারকের নামে মামলা করেন দুর্বাদাশ। 

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বিপ্লব বড়াল প্রতারণার মাধ্যমে জয়ন্ত ফকির নামে একজনের কাছ থেকে ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং দেবাশীষ রায় নামে নামে আরেকজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকাসহ ১৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। বিপ্লব বড়ালের বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে।