২৯ মে ২০২৪, বুধবার, ০৬:০৯:১৫ পূর্বাহ্ন


নাটোরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অপহরণের পর মারধর
অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৫-০৪-২০২৪
নাটোরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অপহরণের পর মারধর নাটোরে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অপহরণের পর মারধর


নাটোরে জেলা নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের পর মারধরের ঘটনা ঘটেছে। দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে গুরুতর আহত অবস্থায় নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় একমাত্র প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবীব রুবেল ও তার সমর্থকদের দায়ী করছেন দেলোয়ার হোসেনের পরিবার।

লুৎফুল হাবীব‌ রুবেল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য পদত্যাগ করা চেয়ারম্যান। লুৎফুল হাবীব‌ রুবেল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ‌্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের শ্যালক।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন লুৎফুল হাবীব রুবেল। গতকাল রোববার (১৪ এপ্রিল) পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সকালে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে শহরের স্টেশন বাজারে আসেন দেলোয়ার। এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে দেখা করতে এলে তার বড় ভাই ও কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এবং আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন মুন্সিকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয় রুবেলের লোকজন।

অনলাইনে আবেদনের পর সেখান থেকে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের প্রতিলিপি জমা দিতে আসেন দেলোয়ার হোসেন। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা রুবেলের লোকজন তাকে মারধর করে কালো মাইক্রোবাসে তুলেন। পরে আরও বেধড়ক মারধর করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

দেলোয়ার হোসেনের বড় ভাই এমদাদুল হক বলেন, নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে যায় লুৎফুল হাবীব‌ রুবেলের সন্ত্রাসী বাহিনীর মোহন ও তার লোকজন। সেখান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করে আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায়। অবস্থা খারাপ দেখে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আমি অ্যাম্বুলেন্সে আছি, তাই আপাতত বেশি কথা বলতে পারছি না। আমার ভাইয়ের ওপর হামলার বিচার চাই।

আপনাকেও অপহরণ করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে এমদাদুল হক এ বিষয়ে আপাতত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমকর্মী এসএম কামাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি কোর্ট থেকে নেমে ডিসি অফিসের সামনে আসতেই দেলোয়ার হোসেনকে অপরিচিত বেশ কয়েকজন একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়।

নাটোর সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. রওশন আরা বলেন, রোগী মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এজন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফুল হাবীব‌ রুবেল বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। একটি গণমাধ্যমে সংবাদ হয়েছে দেখলাম। এ ছাড়া হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি করা হামলাকারী মোহন আপনার লোক জানতে চাইলে  লুৎফুল হাবীব‌ রুবেল অস্বীকার করে বলেন, মোহন আমার লোক না।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ ঢাকা পোস্টকে বলেন, সবকিছু অনলাইনে করা হয়েছে। দেলোয়ার হোসেনের আবেদন আগেই এসেছে। কোনো প্রার্থীকেই নির্বাচন অফিসে আসতে হয়নি। তবুও সন্ধ্যার আগে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বিস্তারিত জেনে জানাতে পারব।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ  তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীকে সিংড়া থেকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখান থেকে তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ অ্যানালাইসিস করে অপরাধী শনাক্তে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।