২৪ জুন ২০২৪, সোমবার, ১২:৪৬:১৭ অপরাহ্ন


পালানোর পর অপারেটর সাখাওয়াতকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ
অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৪-২০২২
পালানোর পর অপারেটর সাখাওয়াতকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ পালানোর পর অপারেটর সাখাওয়াতকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিষপানে দুই সাঁওতাল কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত গভীর নলকূপ অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের মধ্যে।

গত ২১ মার্চ গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘুটু গ্রামের কৃষক অভিনাথ মারান্ডি ও তার চাচাতো ভাই রবি মারান্ডি বিষপান করেন। এতে তাদের মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, বোরো ধানের জমিতে পানি না পেয়ে তারা বিষপান করেন। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ অপারেটর সাখাওয়াত হোসেন দুই কৃষককে পানি না দিয়ে তাদের বিষ পান করতে বলেছিলেন বলেও পরিবার দুটির অভিযোগ।

এ নিয়ে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে গোদাগাড়ী থানায় সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ রাতে মৃত অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা মারান্ডি থানায় প্রথম মামলাটি করার পর থেকেই ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি সাখাওয়াতকে পাওয়া যাচ্ছে না। ২১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বিকাল পর্যন্ত সাখাওয়াত গ্রামেই ছিলেন। ২২ মার্চ বাড়ি থেকে অভিনাথের মরদেহ উদ্ধারের সময়ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানে আলম এবং গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামের সামনে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

তখনও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কৃষক এবং অভিনাথের পরিবার অভিযোগ করছিল যে সাখাওয়াত জমিতে সেচের পানি না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি করেন। রবি ও অভিনাথকে পানি না দেওয়ার কারণে তারা বিষপান করেন। গভীর নলকূপের সামনে বিষপানের পর সাখাওয়াতই ভ্যান ডেকে অভিনাথকে তুলে এনে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেন। কিন্তু প্রথম থেকেই পুলিশ-প্রশাসন এ অভিযোগ পাত্তা দেয়নি। তাৎক্ষণিক সাখাওয়াতকে আটকও করা হয়নি। পর পর দুটি মামলা হলেও পুলিশ এখন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় বলেন, মামলা হওয়ার এক সপ্তাহ পরও পুলিশ সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এটা খুবই রহস্যজনক এবং দুঃখজনক। কারণ, আমরা দেখে থাকি বড় বড় ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করে ফেলে। কিন্তু সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ করেন তিনি।

জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অপারেটর সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু তার অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। আশা করছি দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করতে পারব।

রাজশাহীর সময় / এম আর